অভিরূপ দাস: বহুকালের পুরনো। মেরামতির অভাবে ভেঙে পড়তে পারে বারান্দা। পুরসভার হিসেবে কলকাতাজুড়ে এমন বাড়ির সংখ্যা হাজারদুয়েক। বর্ষার মরসুমে তাদের অবস্থা আরও মারাত্মক। এরই মধ্যে দু’টো বাড়ির বারান্দা ভেঙে পড়ল বুধবার। শহরের উত্তর আর দক্ষিণে দুই ঘটনায় কপালে ভাঁজ বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি জানিয়েছেন, এইসব বাড়িগুলি বহুকাল আগে তৈরি। তারপর থেকে মেরামত হয়নি। কোথাও বাড়িওয়ালা ভাড়াটের দ্বন্দ্বের জন্য থমকে সারাইয়ের কাজ। কিছু বাড়ি রাস্তার উপরে। নীচ দিয়ে রোজ যাতায়াত করেন অগুনতি মানুষ।
গত এক বছরে এমন চারশো বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙেছে পুরসভা। কোথাও চূর্ণ করা হয়েছে রাস্তার ধারের ঝুলন্ত বিপজ্জনক বারান্দা। তবে অনেক বাড়ি তালাবন্ধ। মালিক প্রবাসে। ফলে সেখানে বাড়িভাঙা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে ২০৭ বি লেক গার্ডেন্স ঠিকানায় একটি পুরনো বাড়ির বারন্দা ভেঙে পড়ে। স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের উলটোদিকের এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই নড়বড় করছে।
[আরও পড়ুন: কথা না শুনে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে পড়ুয়ারা, অবসাদে আত্মঘাতী পুরস্কারজয়ী শিক্ষক]
বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে ফেলার নোটিসও দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানিয়েছেন, বাড়ির মালিক বিদেশে থাকেন। বহুবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। এদিন ওই বাড়ির বারান্দা ভেঙে পড়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির উপর। গাড়ির মধ্যে একটি শিশু ছিল। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যায় সে।
ঘটনার পরেই মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কাউন্সিলর। ওই বাড়ির বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বাড়িটিই ভেঙে ফেলা হবে। এদিন সকালে ১ নম্বর নেতাজি সুভাষ রোডের একটি বাণিজ্যিক ভবনের বারান্দার কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ে। পিঠে চাঙড় পড়ে জখম হন সব্যসাচী মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি। বাড়ির নীচে কয়েকজন দোকানির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক জানিয়েছেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভরতি করা হয়েছে জখম ব্যক্তিকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নয়, বিপজ্জনক এই বাড়িগুলি নোংরা জঞ্জালে পরিপূর্ণ। ফলে সেগুলো ডেঙ্গুর মশার বাড়বাড়ন্তেরও একটা জায়গা। সম্প্রতি পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, মালিককে পাওয়া না গেলে স্থানীয় থানার সাহায্যে এমন বন্ধ বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকতে হবে।
