ভোট বাক্সে মুখ ফিরিয়েছে মানুষ। ভোটের প্রচারে একের পর এক উসকানিমূলক মন্তব্য, হুমকির মামলায় তিনি জর্জরিত। তারপরও এতটুকু দম্ভ যায়নি! ফের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি! মঙ্গলবার তারামণ্ডলের কাছে শহিদ দিবসের সভা করছে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল। সেই মঞ্চ থেকেই ‘সুদ সমেত ফেরত’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তাঁর কথায়, ”মিথ্যা মামলা দিলে ডায়েরিতে লিখে রাখুন, সুদ-সমেত ফেরত দেব। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই জবাব।” শুধু তাই নয়, ঋতব্রত তৃণমূলকেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
ভোট প্রচারে গিয়ে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা গিয়েছে। কখনও বলেছেন চার তারিখের পর ডিজে বাজাবেন। আবার কখনও বিরোধীদের শ্মশানে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
একদিকে যখন তারামণ্ডলের সামনে 'কালীঘাট' তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন, কিছুটা দূরেই গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেই সভাকে কটাক্ষ করেই এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''যারা নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করত, মেয়ো রোডে কটা লোক রয়েছে, গ্রামে জেসিবি দিয়ে মাটি কোপানোর সময় এর থেকে বেশি লোক হয়।'' এরপরই কটাক্ষ করে সাংসদের প্রশ্ন, ''কর্মী কোথায়? জনতা কোথায়? কিন্তু মমতা যেখানে, জনতা সেখানে। তৃণমূলের শিকড়ের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ যদি ভাবে গদ্দারি, বেমানি করে দলকে দুর্বল করবে, তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে।''
শুধু তাই নয়, শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বক্তব্য, ''ওরা ভয় পাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।'' এমনকী তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলেন, ''এত মামলা দিয়েছে আমার উপর, একদিকে ইডি, সিবিআই, একদিকে ইনকাম ট্যাক্স, সিআইডি, এসটিএফ। কিন্তু এরপরও মুখ থেকে জয় বাংলা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বের হবে।'' এরপরেই উসকানি দিয়ে অভিষেক বলেন, ''পুলিশ যাঁদের মিথ্যা মামলায় অত্যাচারিত করছে, তাঁদের বলব ধৈর্য্য ধরুন। আর নোটবুকে সবটা তুলে রাখবেন। আমরা ঠিক সময় সব নিয়ে নেব। যারা যে ভাষায় বোঝে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে।''
বলে রাখা প্রয়োজন, ভোট প্রচারে গিয়ে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা গিয়েছে। কখনও বলেছেন চার তারিখের পর ডিজে বাজাবেন। আবার কখনও বিরোধীদের শ্মশানে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভোট মিটতেই যা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, মামলার গেঁড়োয় জড়ান অভিষেক। কিন্তু এরপরেও যে তাঁর যে বদল হয়নি, তা এদিনের অভিষেকের বক্তব্যেই স্পষ্ট।
