বুধবার রাত থেকে তোলপাড় যাদবপুর। দু'পক্ষের সংর্ঘষে রাতেই রণক্ষেত্রের আকার নেয় যাদবপুরের ক্যাম্পাস। এবিভিপি'র সদস্যদের কথায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি-র মিটিং ডাকা হয় কীভাবে? এর প্রতিবাদ করাতেই ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। দু’ক্ষের সংর্ঘষে রাতেই রণক্ষেত্রের আকার নেয় যাদবপুরের ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের জমায়েতে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যান এবিভিপির সদস্যরা। তবে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার আগেই 'ভিসি ক্যাম্পাস থেকে বেপাত্তা' বলে অভিযোগ তোলেন এবিভিপির সভাপতি নিখিল দাস। তাঁর অভিযোগ, 'ক্যাম্পাসে জমায়েতের ১০ শতাংশই ছিল দিমাগি নকশাল। দুর্নীতির মৌচাকে ঢিল পড়তেই হামলা হয়েছে।' উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে তদন্তের দাবিতে সরব এবিভিপি।
বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এই মর্মে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সভাপতির অভিযোগ তোলেন, "কাল রাতে যখন নকশাল, মাওবাদী ছাত্র সংগঠনের হাতে মার খাচ্ছিলাম, তখন স্যরকে ফোন-মেসেজ করেছিলাম, উত্তর দেননি। আমাদের অসহায় অবস্থায় ফেলে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে গেছেন ভিসি। আমাদের সেফটি সিকিউরিটি কে নেবে? কোর্টের অর্ডার ছিল পুলিশ পিকেট বসানোর জন্য, তা করা হয়নি। অরবিন্দ ভবনের সামনে নকশাল-বামপন্থীরা ৪ নম্বর গেট ঘিরে রেখেছে। ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদীদের এক ঘরে করে রাখাই ওদের উদ্দেশ্য। কাল আমরা মরে যেতাম।"
বুধবারের 'হামলা' সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক ছিল বলে অভিযোগ তুলে এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, "জুটার কিছু প্রফেসররা দায়িত্ব নিয়ে ক্লাস বাতিল করেছেন, ছাত্ররা ক্লাস না করে আন্দোলনে এসেছেন। মৌচাকে ঢিল মারতেই যত গন্ডগোল। নেক্সাসের প্রতিবাদ করাতেই আমাদের উপর হামলা হয়েছে।" তাঁর আরও অভিযোগ, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় জুটার দখলে। ভিসি, রেজিস্ট্রাররা ওদের হাতের পুতুল। যাদবপুরে যে জমায়েত হয়েছিল, তার ১০ শতাংশই ছিল দিমাগি নকশাল। উচ্চতর শিক্ষা দপ্তরের কাছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আনার আবেদন।"
বুধবারের 'হামলা' সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক ছিল বলে অভিযোগ তুলে এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, "জুটার কিছু প্রফেসররা দায়িত্ব নিয়ে ক্লাস বাতিল করেছেন, ছাত্ররা ক্লাস না করে আন্দোলনে এসেছেন। মৌচাকে ঢিল মারতেই যত গন্ডগোল। নেক্সাসের প্রতিবাদ করাতেই আমাদের উপর হামলা হয়েছে।" তাঁর আরও অভিযোগ, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় জুটার দখলে। ভিসি, রেজিস্ট্রাররা ওদের হাতের পুতুল। যাদবপুরে যে জমায়েত হয়েছিল, তার ১০ শতাংশই ছিল দিমাগি নকশাল। উচ্চতর শিক্ষা দপ্তরের কাছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আনার আবেদন।" ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে এবিভিপি সভাপতির হুঙ্কার, "বামপন্থী নকশালদের হাতে মার খেতে আসিনি। আমাদের নাম ধরে তালিকা তৈরি করে মারা হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক আক্রমণ চালিয়েছে। বলা হয়েছে, আর ঘরে ফিরতে পারবি না।" 'ভারত বিরোধী কার্যকলাপে' পুলিশি তদন্তের দাবিতে সরব এবিভিপি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবিভিপির স্মারকলিপি।
বুধবার রাতের অশান্তির তীব্র সমালোচনা করে এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯ তারিখ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অগ্নিসংযোগ, আক্রমণ এবং তান্ডব চলেছে, তার ভিত্তিতে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে এফআইআর করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে। যাদবপুরের বিধায়কের বিরুদ্ধেও প্ররোচনার অভিযোগে সরব জুটা সংগঠন। বুধবারের ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২১ আগস্ট অর্ধদিবস কর্মবিরতি সহ অরবিন্দ ভবনের গাড়িবারান্দায় প্রতিবাদ অবস্থান ও কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দেয় জুটা।
এই প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বলেন, "যাদবপুর মেধা কেন্দ্র। রাজ্যের গর্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে কিছু ছাত্র-ছাত্রী এমন করেন যা বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যা করা হয়েছে, তা ঠিক নয়। বাইরে থেকে ঢুকে গিয়ে গুন্ডামি করবে এটা হয় না। যদি আগুন থেকে বড় বিপদ ঘটত? এদের সবকটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।"
