shono
Advertisement
WB Assembly

'একটা সম্প্রদায় জোট বাঁধলে...', গুন্ডাদমন আইন হলে উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে স্ক্যানারে মমতাও!

সোমবার বিধানসভায় বিলটি পেশ করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ওই মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেন।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:18 PM Jun 29, 2026Updated: 04:33 PM Jun 29, 2026

ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ডিজে' মন্তব্য চূড়ান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। একইভাবে বিতর্ক তৈরি হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে। জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘‘একটা বিশেষ সম্প্রদায় জোট বাঁধলে হিন্দুদের শেষ করতে ১ মিনিটও সময় লাগবে না।'' এনিয়ে কোনও মামলা দায়ের না হলেও পরবর্তী সময়ে তা হইহই হয়। সোমবার বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ হওয়ার পর বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায় ইঙ্গিত, গুন্ডাদমন আইন এলে এধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করলেও শাস্তির আওতায় আসবে।

Advertisement

অগ্নিমিত্রা পাল এটি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘‘একজন বলেছিলেন, একটা সম্প্রদায় জোট বাঁধলে হিন্দুদের শেষ করতে ১ মিনিটেরও কম সময় লাগবে। এধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য আগে শুনেছি আমরা। সম্প্রতিও আমাদের কলিগ, হুমায়ুন কবীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। গুন্ডাদমন আইন পাশ হলে এধরনের উসকানি দিলেও শাস্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, অপরাধ তো শুধু হাতে হয় না, মস্তিষ্ক দিয়েও হয়।''

সোমবার বিধানসভায় পেশ হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। এই বিল পাশ করিয়ে লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা আদায় করতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গুন্ডাদমন আইনের আওতায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে ১ বছর পর্যন্ত কারাবাস হবেই। মোদ্দা কথা, রাজ্যে গুন্ডারাজ দমনে অত্যন্ত কঠোর হতে চলেছে এই আইন।

বিল পেশের পর আলোচনা করতে উঠে প্রথমেই আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বিরোধিতা করেন। প্রশ্ন তোলে, গুন্ডা বলে সন্দেহ করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে ১ বছর পর্যন্ত বিনা দোষে কারাবাস ভোগ করতে হবে কেন? কেন তিনি জামিন পাবেন না? বিরোধীদের কোনও কার্যকলাপ গুন্ডাগিরি বলে সন্দেহ করে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে তাঁরা বড়সড় সমস্যা তৈরি হবে। তাঁর পরামর্শ, বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। 

এরপর অগ্নিমিত্রা পাল এটি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘‘একজন বলেছিলেন, একটা সম্প্রদায় জোট বাঁধলে হিন্দুদের শেষ করতে ১ মিনিটেরও কম সময় লাগবে। এধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য আগে শুনেছি আমরা। সম্প্রতিও আমাদের কলিগ, হুমায়ুন কবীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। গুন্ডাদমন আইন পাশ হলে এধরনের উসকানি দিলেও শাস্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, অপরাধ তো শুধু হাতে হয় না, মস্তিষ্ক দিয়েও হয়।'' অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্রতা অধিক হলেই প্রয়োজনমতো গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে। সেক্ষেত্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও তার বাইরে থাকবেন না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement