রোগী কতদিন ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। কী ওষুধ চলছে— এক ক্লিকেই মিলবে সব তথ্য। প্রেসক্রিপশন অডিটের নতুন সফটওয়্যার নিয়ে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, প্রাথমিক প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিল রাজ্যের ১০ টি হাসপাতাল। এখানেই প্রাথমিকভাবে ট্রায়াল মোডে শুরু হচ্ছে প্রেসক্রিপশন অডিট সফটওয়্যার। ১০টি হসপিটালের মধ্যে ছিল ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল, সিউড়ি সদর হাসপাতাল-সহ একাধিক হাসপাতাল। তাদের আধিকারিকরা সম্প্রতি প্রশিক্ষণ নিয়ে গিয়েছেন স্বাস্থ্যভবনে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশ কিছু হাসপাতালের আধিকারিকদের ডাকা হবে।
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরপরই স্বাস্থ্যভবনে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ কর্মসূচির। ডাকা হয়েছিল বেশকিছু মেডিক্যাল কলেজকে। জানা গিয়েছে ট্রায়াল মোডে নতুন প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালু হবে কিছু সরকারি হাসপাতালে। যে সফটওয়্যারে আপলোড করা হবে রোগীর প্রেসক্রিপশন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রোগী কতদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন? তাকে কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে? সবই জানা যাবে এই প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যার থেকে। এতে আগামী দিনে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার যেমন কমানো যাবে, তেমন ডিজিটাল ব্যবস্থায় রোগীরও সুবিধা হবে। জনস্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অনির্বাণ দলুইয়ের কথায়, এখন রোগীকে গুচ্ছের কাগজ নিয়ে ঘুরতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে চেকআপ-এর জন্য আসতে হয় হাসপাতালে। সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকার কোনও বাসিন্দার পক্ষে চিকিৎসা সংক্রান্ত গুচ্ছের কাগজ নিয়ে আসা ঝক্কির। নয়া ডিজিটাল সিস্টেমে আর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ বইতে হবে না। প্রেসক্রিপশন থাকবে হাসপাতালের কম্পিউটারে। রোগীর থাকবে নির্দিষ্ট আইডি। সেটা বললেই ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে প্রেসক্রিপশন।
নয়া ডিজিটাল সিস্টেমে আর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ বইতে হবে না। প্রেসক্রিপশন থাকবে হাসপাতালের কম্পিউটারে। রোগীর থাকবে নির্দিষ্ট আইডি। সেটা বললেই ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে প্রেসক্রিপশন।
স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিক, অন্যান্য ওষুধ কী দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি রোগী কতদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তা-ও জানা যাবে এক ক্লিকে। নয়া ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে। রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্য বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, প্রতিটি হাসপাতালের বেড অকুপেন্সি নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কোন হাসপাতালে কত বেড ভর্তি, ক’টা খালি, তা যেন প্রতিমুহূর্তে নজরদারি করা হয়। নয়া সফটওয়্যার সেই পদক্ষেপের অনুকূলেই।
বিগত সরকারের আমলে সরকারি ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছিল, বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের হাতের লেখা অস্পষ্ট। প্রেসক্রিপশন পড়া যাচ্ছে না। প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক ওষুধ লেখার পরিবর্তে যথেচ্ছ লেখা হচ্ছে ওষুধের ব্র্যান্ডনেম। প্রেসক্রিপশন পড়ে বোঝা যাচ্ছে না রোগীর কী অসুখ হয়েছে। বহু প্রেসক্রিপশনে প্রভিশনাল বা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিসের উল্লেখ নেই। এমনকী রোগীর শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কিত তথ্য অনেক সময়ই লেখা থাকছে না প্রেসক্রিপশনে। এবার প্রেসক্রিপশন নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে আপলোড হলে সেই ঝঞ্ঝাট কাটবে।
