এক বছরে ক্যান্টিনের বিল ১ কোটি টাকা! উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে থাকাকালীন কোটি কোটি টাকা খরচ করেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) কন্যা প্রিয়দর্শিনী। এত বিপুল টাকা খরচ হল কীভাবে, উঠছে সেই প্রশ্ন। তদন্তের দাবিতে সরব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের একাধিক অনুষ্ঠানে ওই ক্যান্টিনই খাবার সরবরাহ করত। তবে তা কি সত্যি কোটি টাকা বিল হওয়ার মতো? উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "এতটা বিল নিয়ে আমিও নিশ্চিত ছিলাম না। সে সময় ফিনান্স আধিকারিকের সঙ্গে আমার কথা হয়। সে কারণে নতুন করে টেন্ডার ডাকা হয়। যেকোনও বিষয়ে তদন্ত হতেই পারে। তদন্ত হলে আমি সবই বলব। এখন টেন্ডারেও প্রাথমিক অসংগতির অভিযোগ ঊর্ধ্বতনদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।" যদিও প্রিয়দর্শিনীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। তাঁর দাবি, "আমি চাকরির শুরু থেকেই দেখি একটা সংস্থাই বরাদ পায়। যদিও ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তির কোনও কাগজ নেই। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তত নেন। কেন উনি ওই সংস্থাকে বরাদ দিলেন, আর কেনই বা কোটি টাকা বিল হয়েছে, তা উনিই জানেন।"
রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেপ্তারির পর চর্চায় উঠে এসেছিল মেয়ে প্রিয়দর্শিনীর নামও। সেই সময় তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব ছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক মহলের খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক পদে ব্যাপক রদবদল করা হয়। প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে নাকি পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা মানতে রাজি হননি। এরপরই শিক্ষাদপ্তর তাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তিনি আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। এবার দেখার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়।
