অভিরূপ দাস: একদল অনিকেতের পাশে। অন্যদল বিপক্ষে। তাদের মধ্যে কেউ খড়গহস্ত। কুৎসা করছেন। অন্য পক্ষ পাশে দাঁড়িয়ে ধুয়ে দিচ্ছেন উল্টোদিকের আসফাকুল্লা, দেবাশিস হালদারদের। জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট থেকে অনিকেত মাহাতো ইস্তফা দেওয়ার পর ঝামেলা থামার নাম নেই! বরং অনিকেতকে নিয়ে মুষ্টিযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে।
‘অভয়ার বিচার’ বদলে এখন হয়েছে ‘অনিকেত কোন্দল’! এরই মধ্যে শনিবার ভাইরাল হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার। যেখানে দেখা যাচ্ছে ৩১ ডিসেম্বরই ডাক্তার অনিকেত মাহাতোকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পোস্টিং দিয়েছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। ঠিক যেদিন সন্ধেবেলা জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগ করেন ডা. মাহাতো। যদিও সেই সার্কুলারের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন।
শনিবার বিকেলে ডা. অনিকেত মাহাতো যদিও জানিয়েছেন, আমি নিজে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও নোটিস পাইনি। আমার বাড়িতেও কোনও নোটিস যায়নি। তবে অনিকেত জানিয়েছেন, শনিবারই তিনি সন্ধেবেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ করতে ইচ্ছুক নন। সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ (এসআর-শিপ) ছাড়তে চান, এই সিদ্ধান্তের কথা শুক্রবারই ঘোষণা করেছিলেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। তার ২৪ ঘণ্টার মাথায় বাজারে অনিকেতকে আরজি করেই ন্যায্য পোস্টিং দেওয়ার সরকারি অর্ডার ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা কিংবা স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম অথবা আরজি কর কর্তৃপক্ষ এই সার্কুলারের বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কেউ উত্তর দেননি। অনিকেত মাহাতো জানিয়েছেন, ওঁর ইমেল আইডি, ওর আইনজীবী, বেলপাহাড়িতে ওঁর বাড়ির স্থায়ী ঠিকানা (যার উল্লেখ অর্ডারেও আছে) কিংবা স্থানীয় পোস্ট অফিস কোথাও এই অর্ডার সার্ভড হয়নি। অবশ্য অনিকেত এও জানান, এই অর্ডার যে দিনই বেরোক না কেন, সেটি এখন তাঁর কাছে অপ্রাসঙ্গিক, অর্থহীন। কারণ তিনি যে আর এসআর-শিপ চালিয়ে যাবেন না। তিনি জানান, বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা তিনি সরকারকে মিটিয়ে দিয়ে এসআর-শিপ থেকে এখন অব্যাহতি চান।
