জঙ্গি দমনে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে রাজ্য। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশের আদলে এই রাজ্যেও অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (Anti Terrorist Squad) পরিকল্পনা করছে রাজ্য পুলিশ। কীভাবে এই নতুন দপ্তর তৈরি করা যেতে পারে, তা নিয়ে প্রাথমিক খসড়াও করেছে নবান্ন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকও করেছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে জঙ্গি দমনে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশে আলাদা দু'টি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ রয়েছে। এবার রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সংযুক্ত করে রাজ্যে একটিই এসটিএফ তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
এটিএসের মাথায় থাকতে পারেন একজন আইজি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। তাঁর অধীনে কাজ করবেন ডিআইজি, এসপি ও অন্য পদমর্যাদার পুলিশকর্তা ও আধিকারিকরা। এটিএস-এর মূল দপ্তর কলকাতা বা তার সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হতে পারে।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। রাজ্যের বিশেষ কিছু জায়গায় মডিউল তৈরি করেছে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আইএস, আকিস, লস্কর-সহ বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন। প্রত্যক্ষভাবে ওই জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সাহায্য করছে পাক চর সংস্থা আইএসআই। একদিকে, জঙ্গিরা নাশকতার ছক কষছে, তাদের টার্গেটে রয়েছেন রাজ্যের ভিভিআইপিরা, অন্যদিকে চলছে জঙ্গি নিয়োগ। সোশাল মিডিয়া ছাড়াও জঙ্গি নেতারা খারিজি মাদ্রাসায় তরুণদের মগজধোলাইও করছে, এমন তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।
সূত্র জানিয়েছে, এই রাজ্যে নতুন করে একাধিক সংগঠনের জঙ্গিরা নাশকতার ছক কষতে পারে, এমন সম্ভাবনা গোয়েন্দারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সেই কারণেই এখন রাজ্যের জঙ্গি সংগঠন ও তাদের স্লিপার সেল, মডিউলে কড়া নজরদারির প্রয়োজন বোধ করছেন গোয়েন্দারা। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই রাজ্য পুলিশে একটি সন্ত্রাসদমন স্কোয়াড বা এটিএস তৈরির পরিকল্পনা করেছে।
মহারাষ্ট্র পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, গুজরাট পুলিশ বা দিল্লি পুলিশের এটিএসের আদলে এই এটিএস তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে পুলিশ আধিকারিকরা রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদের এই নতুন এটিএসে নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই এটিএসের মাথায় থাকতে পারেন একজন আইজি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। তাঁর অধীনে কাজ করবেন ডিআইজি, এসপি ও অন্য পদমর্যাদার পুলিশকর্তা ও আধিকারিকরা। এটিএস-এর মূল দপ্তর কলকাতা বা তার সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হতে পারে। ভিনরাজ্যের এটিএসের মতো এই রাজ্যের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি জেলায় এটিএস-এর শাখা খোলারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্যের যে জেলাগুলিতে জঙ্গি মডিউল তৈরি হয়েছিল অথবা জঙ্গিরা স্লিপার সেল তৈরি করেছে, সেই জেলা তথা জায়গাগুলি শনাক্ত করে নবান্নকে জানাচ্ছেন রাজ্যের গোয়েন্দারা।
সেই তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে এটিএফের শাখা দপ্তর খোলা হতে পারে। এর দায়িত্বেও থাকবেন পুলিশকর্তারা। শাখা দপ্তরগুলি নজর রাখবে জঙ্গিরা কোনও জায়গায় স্লিপার সেল তৈরি করছে কি না, বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে কোনও জঙ্গি নেতা এসে মগজধোলাইয়ের চেষ্টা করছে কি না বা জঙ্গিরা রাজ্যের কোথাও নিয়োগের চেষ্টা করছে কি না।
রাজ্য পুলিশের কর্তাদের মতে, এটিএস তৈরি হলেও গুরুত্ব দেওয়া হবে এসটিএফকেও। তাই রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফকে সংযুক্ত করে একটি এসটিএফই কাজ করবে। জঙ্গিদের ব্যাপারে খোঁজখবর ও ধরপাকড় করা ছাড়াও মাদক সন্ত্রাস, অস্ত্র পাচার, সন্ত্রাস তহবিলের উপর এসটিএফ কড়া নজর রাখবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
