মেসি কাণ্ডে দ্বিতীয়বার হাজিরা দিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছলেন অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। এর আগে গত ১৮ জুন থানায় হাজিরা দেন তিনি। সূত্রের খবর, সেদিনের জবাবে সন্তুষ্ট হননি তদন্তকারীরা। সে কারণে সোমবার তলব করা হয় তাঁকে। সেই তলবেই সাড়া দিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।
গত ১৭ মে শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির ৩(৫)/ ৩০৮ (২)/ ৩১৮(৪)/৩৫১(২)/৬১(২) ধারা অর্থাৎ টিকিটে কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, মেসির ইভেন্টের নিরাপত্তায় গাফিলতি, প্রতারণা ইত্যাদির অভিযোগ এনেছেন মেসির গোট টুরের আয়োজক শতদ্রু। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে গত ৪ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। তবে তার আগেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। প্রথমবার তলব এড়ানোর সময় অরূপ জানান, তিনি অসুস্থ। তাই আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু অরূপকে সেই সময়টাও দিতে নারাজ পুলিশ।
গত ৮ জুন, বেলা ১১টার মধ্যে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার আগের দিন প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে দু’টি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে আসে পুলিশ। তাতে সাফ বলা হয়, প্রাক্তন মন্ত্রী যে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা দিতে চাইছেন না, সেই শারীরিক অসুস্থতার কোনও প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট তিনি জমা দেননি। তাই গত ৮ জুন, বেলা ১১টার মধ্যে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতেই হবে। সেদিনও সশরীরে হাজিরা দেননি অরূপ। আইনজীবী মারফতও থানায় কিছু জানাননি। ইতিমধ্যে মেসি কাণ্ডে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ। সেই আবেদন খারিজ হয়েছে। পরে তিনি আবেদন করেন কলকাতা হাই কোর্টে। সেখানেও প্রথমে ধাক্কা খান।
যদিও পরে হাই কোর্টের তরফে জানানো হয়, তলবের ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে জানাতে হবে। একইসঙ্গে হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, তদন্ত চলবে তদন্তের মতোই। তবে পুলিশ গ্রেপ্তারের মতো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়তে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস। এরপর গত ১৮ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন তিনি।
