রাজ্য সরকারের কল্পতরু বাজেটেও খুশি নন আশাকর্মীরা। এবার ১১ দফা দাবিতে পথে নামলেন তাঁরা। স্বাস্থ্যভবনের সামনে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। পুলিশি বাধা পেয়ে স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল আশাকর্মীরা (ASHA Workers Protest)। তাঁদের সাফ কথা, "ভাতা নয়, বেতন চাই। প্রতিনিধিদলকে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে দিতেই হবে।"
সম্প্রতি আট দফা দাবিতে পথে নেমেছিলেন আশাকর্মীরা। তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল তিলোত্তমা। অন্তর্বর্তী বাজেটে সেই আশাকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ উপহার দিয়েছে রাজ্য। আশাকর্মীদের মাসিকভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে ১৮০ দিন। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করবে সরকার। কিন্তু এই ভাতাবৃদ্ধিতে একেবারেই খুশি নন আশাকর্মীরা। তাই শুক্রবার ফের পথে নামলেন আশাকর্মীরা। এবার ১১ দফা দাবিতে সরব তাঁরা। এদিন স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আশাকর্মীরা জমায়েত করেন স্বাস্থ্যভবন চত্বরে। স্বাস্থ্যভবনের কিছুটা আগে ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আশাকর্মী ও পুলিশকর্মীরা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রাস্তায় বসে পড়েন আশাকর্মীরা।
তাঁদের সাফ কথা, "আমরা ১০০০ টাকার জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা বেতন চেয়েছি। ওনাকে ভাতা বাড়াতে হবে না। ওই হাজার টাকা আমরা ফেরত দিচ্ছি। লোকে বাড়িতে বসে ৫০০ টাকা বাড়তি পাবে, আমরা পরিশ্রম করে বেতন পাব না?" এপ্রসঙ্গে এই আন্দোলনের নেত্রী ইসমাতারা খাতুন বলেন, "আমাদের দাবির প্রতি সুবিচার হল না। গতকালই জানিয়েছিলাম আমরা আজকের কর্মসূচির কথা। তা সত্ত্বেও লৌহকপাট তৈরি করা হল কেন? আমরা তো মারপিট করতে আসিনি।" তাঁদের সাফ কথা, দাবি পূরণ না হলে ৩১ মার্চের মধ্যে সারাবছরের যে কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে হয়, তা তাঁরা দেবেন না।
