সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুন সংক্রান্ত নথি আদালতে পৌঁছল না! পৌঁছলেন না তদন্তকারী আধিকারিকও (আইও)! ফলে পুলিশের হাতে ধরা পড়েও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিন পেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। মাত্র হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন পেলেন তিনি।
মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মেরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে অভিযুক্ত 'পলাতক' বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এদিন তাঁকে আদালতে তোলা হয়। কিন্তু আদালতে সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুন সংক্রান্ত নথি আদালতে পৌঁছল না! সময়ে পৌঁছলেন না সেই ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিকও। শেষপর্যন্ত পথচারী মত্ত অবস্থায় ধাক্কা মারার মামলায় জামিন মেলেন সেই অভিযুক্ত বিডিও। বারাসত আদালত থেকে রাতে বেরিয়েও গেলেন অপসারিত’ রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ঘটনায় শোরগোল উঠেছে ওয়াকিবহাল মহলে।
পশ্চিম মেদিনীপুর দাঁতনের বাসিন্দা সল্টলেক দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম জড়িয়ে পড়ে। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশ।
মত্ত অবস্থায় নিউটাউনের রাস্তা গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা! অভিঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই পথচারী। আহতের নাম মমতাজুল সেখ। ঘটনায় এক যুবক প্রতিবাদে মত্ত বিডিও’র ‘দাদাগিরি’র ভিডিও ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যম জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবাদকারী যুবকে দুর্নীতিগ্রস্ত, গালিগালাজ, চড়-থাপ্পড় মারার হুমকি এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন বিডিও। গুরুতর সেই অপরাধে গ্রেপ্তারের পরও শেষপর্যন্ত আদালতে আবার রক্ষা পেলেন উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জের ‘অপসারিত’ সেই বিডিও প্রশান্ত বর্মন। মঙ্গলবার বারাসত জেলা আদালত অভিযুক্ত বিডিও–কে ১ হাজার টাকার বেল বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছে।
অভিযোগ উঠেছিল, ‘প্রভাব’ খাটিয়ে তদন্ত চলাকালীনই বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন প্রশান্ত বর্মন। তা মঞ্জুরও করে আদালত। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশ।
পশ্চিম মেদিনীপুর দাঁতনের বাসিন্দা সল্টলেক দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন হয়েছিলেন। মৃতের পরিবার পুলিশকে কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, গত ২৮ অক্টোবর স্বপনকে অপহরণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম জড়িয়ে পড়ে। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, ব্যবসায়ীকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। পরদিন ২৯ অক্টোবর ফ্ল্যাটের অদূরে যাত্রাগাছি খালপাড় থেকে স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে অগ্রগতিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানার থেকে মামলা যায় কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখার হাতে। খুনের ঘটনায় ধাপে ধাপে বিডিও ঘনিষ্ঠ মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছিল, ‘প্রভাব’ খাটিয়ে তদন্ত চলাকালীনই বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন প্রশান্ত বর্মন। তা মঞ্জুরও করে আদালত। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশ। হাইকোর্ট আগাম জামিন বাতিল করে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও নির্ধারিত সময় পার হলেও, তিনি আত্মসমর্পণ না করায় বিধাননগর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর অভিযুক্ত বিডিও সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তাতেও সাড়া দেননি তিনি। গত ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে বিধাননগর মহকুমা আদালতে চার্জশিটও পেশ করে পুলিশ। প্রশান্ত বর্মন ছিলেন অধরাই। তিনি পলাতক বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছিল। অবশেষে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে নিজেই প্রকাশ্যে এলেন তিনি।
