shono
Advertisement
Ritabrata Banerjee

ঋতব্রতর দলই 'আসল' তৃণমূল! দলীয় কর্মীদের মামলার রায়ে জানিয়ে দিল আলিপুর আদালত

সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের নির্দেশাবলি দেখিয়ে ঋতব্রতর দাবি, পার্টি অফিসের মালিকানাও তাঁদের দিয়েছে আদালত।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:39 PM Jul 12, 2026Updated: 05:26 PM Jul 12, 2026

কারা 'আসল'? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  কালীঘাট তৃণমূল নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আসল' তৃণমূল? শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এনিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যাহত। ভঙ্গুর জোড়াফুল শিবিরের ছত্রাখান অবস্থায় সবচেয়ে চাপে দলের সাধারণ কর্মীরা। কাকে সামনে রেখে এগোবেন তাঁরা, বুঝতে পারছেন না। এর চূড়ান্ত ফয়সালা চেয়ে আলিপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। সেই মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে সম্প্রতি। আদালত জানাল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দলটাই 'আসল তৃণমূল'। অরূপ রায় যে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন, সেটাই দলের আসল পরিচয়। সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত এই খবর জানান। সেইসঙ্গে তিনি এও জানান, আলিপুর আদালতের এই রায়ের কপি হাতে পেলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে নিজেদের স্বপক্ষে প্রমাণ আরও জোরাল করতে। 

Advertisement

ছাব্বিশের ভোটে গোহারা হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃ্ত্বাধীন  কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, দলের অভ্যন্তরের 'বিদ্রোহে' জেরবার। আর উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'আসল' তৃণমূলের ঘর ভরে উঠছে। যত সময় যাচ্ছে, মমতাকে একা করে একে একে তৃণমূল নেতারা  ভিড়ছেন ঋতব্রত শিবিরে। তাতে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সাধারণ কর্মীরা। তাঁরাই আলিপুর আদালতে মামলা করেন। আজ রায় শুনে নিজেদের দিশা খুঁজে পেলেন।

ঋতব্রত সাংবাদিক সম্মেলনে জানান,  ‘‘রায় অনুযায়ী, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত দল। কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ।এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তাহলে তাদের এসব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।''

রবিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অরূপ রায় আমাদের চেয়ারপার্সন ঘোষিত হন। তারপর তৃণমূলের নাম করে কিছু লোক আমাদের নানা পার্টি অফিসে ঢুকে অশান্তি করছিল। তার ভিত্তিতেই সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আলিপুর আদালতে একটা মামলা করেছিলেন। রায় বলেছে, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত দল। কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ।এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তাহলে তাদের এসব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।'' 

আদালতের রায়ের নথি দেখিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন যে পার্টি অফিস এবং দলীয় তহবিলের বিষয়টিও তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি জানান, পার্টির তহবিল অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না, পার্টি অফিসও ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন ঋতব্রত শিবিরের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ যদি অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ছাড়া অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনও কাজ করতে চান, সেটা পারবেন না।

শুধু তাই নয়, আদালতের রায়ের নথি দেখিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন যে পার্টি অফিস এবং দলীয় তহবিলের বিষয়টিও তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি জানান, পার্টির তহবিল অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না, পার্টি অফিসও ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন ঋতব্রত শিবিরের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ যদি অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ছাড়া অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনও কাজ করতে চান, সেটা পারবেন না।

আলিপুর আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রতর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমরা যে দাবি করেছিলাম, আদালত তাকেই সিলমোহর দিয়েছে। নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম - এসব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।'' এরপর কালীঘাট তৃণমূলের পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে নজর সকলের। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement