অর্ণব আইচ: উৎসবের মরশুমে শহরে ভিখারির ছদ্মবেশে ছিনতাইয়ের ফাঁদ পেতেছে এক দল মহিলা। কলকাতা পুলিশের দাবি, চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া, নিউ মার্কেটের মতো জনবহুল জায়গায় কোলে বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এরা। তাই সাবধান! কোলে বাচ্চা দেখে কোনও মহিলাকে সাহায্য করতে গেলেন আপনি, আর সেই ফাঁকেই হয়ত দেখলেন, আপনার পকেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে মানিব্যাগ কিংবা দামি মোবাইল!
[বন্দর এলাকায় খুন কুখ্যাত দুষ্কৃতী, পরিত্যক্ত গুদামে মিলল গলাকাটা দেহ]
সদ্য নতুন বছর পড়েছে। বর্ষবরণের আনন্দে মাতোয়ারা শহরবাসী। ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানার মতো দর্শনীয় স্থানগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। আর বছরের এই সময়টাতেই শহর জুড়ে বাড়ে পকেটমারদের উপদ্রব। ভিড়ের মাঝে নিঃশব্দে কাজ হাসিল করে তারা। তাই এবার পকেটমারদের জব্দ করতে গোড়া থেকেই সতর্ক ছিল কলকাতা পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা, নিউ মার্কেট তো বটেই, বিভিন্ন মল ও রেস্তোরাঁতেও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সর্বক্ষণ চলছে নজরদারিও। হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকী, আসানসোল, দুর্গাপুর থেকে শহরে আসা পকেটমাররা ধরা পড়েছে পুলিশের পাতা জালে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে ৯ জন আবার মহিলা। গোয়েন্দার দাবি, এই মহিলাদেরই কয়েকজন ভিখারির বেশে অপারেশন চালাত। কীরকম? গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, শহরের বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় মলিন পোশাকে কোলে বাচ্চা নিয়ে হাজির হয় এই মহিলারা। তাতে কারও কোনও সন্দেহ হয় না। বরং অনেকে তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। আর ঠিক সুযোগটাকেই কাজে লাগায় এই মহিলা পকেটমাররা। কোনও কারণে যদি একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন, ব্যস তাহলেই কেল্লাফতে! মুহূর্তে আপনার পকেট থেকে মানিব্যাগ কিংবা দামি মোবাইলটি হাতিয়ে নেবে এই মহিলারা। একজনকে সামনে রেখে অনেক ক্ষেত্রে পিছনে সতর্ক থাকেন অন্যজনও। রীতিমতো ফাঁদ পেতেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হত। কলকাতা পুলিশের গোপন নজরদারিতে অবশ্য সব জারিজুরি ফুরোল।
[মিনারেল ওয়াটারের নামে সাধারণ জল, অসাধু চক্রের পর্দাফাঁস]
সুতরাং নতুন বছরে চুটিয়ে আনন্দে করুন। কিন্তু সাবধানে। পকেটমারদের এই চক্র ফাঁস হওয়াতেই মালুম হচ্ছে, যা দেখা যায় তার সবটা সত্যি নাও হতে পারে।
[ব্যবসার জগতে চিরস্মরণীয় এই বাঙালি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানেন?]
The post ছেলে কোলে ভিক্ষার ছলে ছিনতাই, শহরে সক্রিয় মহিলা পকেটমাররা appeared first on Sangbad Pratidin.
