সহজে কোটিপতি হওয়ার শখ। বিলাসবহুল গাড়ি আর ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছা। কিন্তু কলেজে ভর্তি হলেও ক্লাস করত না বিসিএ ছাত্র হর্ষবর্ধন সাউ। শখ পূরণ করতে ক্রাইম থ্রিলার দেখেই নাকি লুটের প্ল্যান করেছিল গুণধর।
সম্প্রতি সরশুনার অভিজাত বহুতল আবাসন থেকে দু'কোটির সোনা ও সাড়ে ২৬ লাখ টাকা নগদ লুঠে বিসিএ ছাত্র হর্ষবর্ধন সাউকে গ্রেপ্তার করেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। এরপরই ওই ছাত্রের ব্যাপারে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে। হর্ষবর্ধনকে 'টুকলি'র অভিযোগে একাদশ শ্রেণিতেই স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পড়াশোনা না করে সহজে ধনী হতে চাইত সে। প্রেমিকা থাকলেও একাধিক বান্ধবীর উপর ঝোঁক ছিল তার। তাই এক বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকেই সোনা ও টাকা লুঠের ছক কষে সে। ধৃত হর্ষবর্ধনের প্রেমিকার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া পুরো টাকা ও সোনা। পুলিশ জেনেছে, মূলত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ক্রাইম থ্রিলার দেখে সাবানের টুকরোয় ফ্ল্যাটের চাবির ছাপ নিয়ে নকল চাবি তৈরি করা ও অনলাইনে ইলেকট্রিক করাত কেনার ছক কষে সে। সরশুনার একই আবাসনে থাকার সূত্রে হর্ষবর্ধন জানত যে, তার বান্ধবী তথা ব্যবসায়ী পরিবারের শোয়ার ঘরের আলমারির লকারে রয়েছে প্রচুর সোনা ও টাকা। তাই লুঠের ছক কষে প্রথমে একটি সাবানের টুকরোয় ফ্ল্যাটের চাবির ছাপ নেয় সে। তার সাহায্যে ফ্ল্যাটের নকল চাবি তৈরি করে নেয়। অনলাইনে কিনে নেয় ইলেকট্রিক করাত ও টাকা গোনার যন্ত্র। এরপর তালা খুলে হানা দেয় বান্ধবীর ফাঁকা ফ্ল্যাটে।
ধৃত হর্ষবর্ধন সাউ।
ইলেকট্রিক করাত দিয়ে আলমারির পিছনের দিক থেকে লকারের জায়গাটি কেটে ফেলে। তারপর ভিতর থেকে ১ কিলো ২০০ গ্রাম সোনার গয়না ও সাড়ে ২৬ লাখ টাকা লুঠ করে সে। ফ্ল্যাটে বসে যন্ত্র দিয়ে টাকা গোনে। লুঠের টাকা ও গয়না ব্যাগে পুরে বেরিয়ে যায় হর্ষবর্ধন। সিসিটিভির ফুটেজের সঙ্গে মোবাইলের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকরা। তাকে জেরা করে গোয়ন্দারা জেনেছেন যে, জোকার কাছে একটি নামী বেসরকারি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে সে ভর্তি হয়। কিন্তু পরীক্ষার সময় টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় সে। এরপরই তাকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হয়। অন্য একটি স্কুল থেকে পাশ করে সে। বাবার প্রচেষ্টায় কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু পড়াশোনার দিকে মন ছিল না তার। কীভাবে কোনও কাজ না করেই কোটিপতি হবে, বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে, সঙ্গিনীদের নিয়ে নাইটক্লাবে যাবে, তা-ই শুধু ভাবত ওই তরুণ ছাত্র। সহজে টাকা রোজগারের জন্য লুঠের পথই বেছে নিয়েছিল। লুঠের পর প্রেমিকাকে বলেছিল, দু'টি ব্যাগ তাঁর কাছে রাখতে। প্রেমিকার এতে সন্দেহ হয়। তাই প্রেমিকারই এক বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি লুঠের টাকা ও গয়না রেখে আসে সে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালবাজারের গোয়েন্দারা ওই তরুণীর বাড়িতে হানা দিয়ে পুরো টাকা ও গয়না উদ্ধার করেন। ওই ছাত্রকে জেরা করে এই লুঠপাটের ব্যাপারে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
