তাঁর জোটে এলে হেলিকপ্টারে করে প্রচারের সুযোগ মিলবে, এমনই 'টোপ' দিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। হেলিকপ্টারের বিপুল ভাড়া কে জোগাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে, 'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন' বলে রহস্য বাড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই 'গৌরী সেন' কি বিজেপি, না অন্য কেউ? তা অবশ্য খোলসা করেননি হুমায়ুন। এই হেলিকপ্টার-টোপ যে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেই দেওয়া হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে, হুমায়ুন প্রসঙ্গ টেনে ইঙ্গিতে সেলিমকেও ফের ধুয়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। সেলিমের প্রশংসা করতে গিয়ে হুমায়ুন ব্যঙ্গ করেছিলেন সুজনকে। তিনি বলেন, সেলিম সাহেব ভালো। কিন্তু সুজন ভোটে জিততে পারেন না। সুজনের উদ্দেশ্যে তিনি এও বলেন, "এক কমিউনিস্ট বৈঠকে বসতে আসছেন আরেক জনের গোঁসা হচ্ছে।" মঙ্গলবার সুজন পালটা হিসাবে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে হুমায়ুনকে তীব্র আক্রমণ করেন, সেখানে ইঙ্গিতে কার্যত কটাক্ষ করেন সেলিমকেও। সুজন বলেন, "হুমায়ুনটা কে আমি জানি না। তিনি নাকি বলেছেন, সুজনবাবু কোনওদিন ভোটে জিততে পারেন না। সেলিমবাবু ভালো। সেলিমবাবু যে ভালো, সেটা আমি জানি। তিনি আমাদের দলের সেক্রেটারি। কিন্তু হুমায়ুনের সার্টিফিকেট আমার দরকার হয় না।"
তাঁর জোটে এলে হেলিকপ্টারে করে প্রচারের সুযোগ মিলবে, এমনই 'টোপ' দিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। হেলিকপ্টারের বিপুল ভাড়া কে জোগাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে, 'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন' বলে রহস্য বাড়িয়েছেন তিনি।
হুমায়ুনের প্রতি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে সুজন আরও বলেন, "৩০-৭০-এর ভাগাভাগি করে যাঁরা ভাসিয়ে দিতে চায়, যে একবার তৃণমূল, একবার কংগ্রেস, একবার বিজেপি, ফের তৃণমূল ইত্যাদি করে বেড়ায়, তাঁর কথা শুনতে হবে নাকি? অমিত শাহর মতো বাহিনী যাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাঁদের সার্টিফিকেট আমাদের লাগবে না।"
দিন কয়েক আগে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে পাঁচতারা হোটেলে দীর্ঘ বৈঠক হয় হুমায়ুনের। যা নিয়ে সিপিএম পার্টির মধ্যে তোলপাড় চলছে। সুজন এর আগেও এই বৈঠককে বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এদিন তাঁর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সিপিএমে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। হুমায়ুনকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি যে এদিনও পরোক্ষে সেলিমকে বৈঠক করার জন্য তুলোধোনা করে দিয়েছেন তা নিয়ে দলে মতভেদ নেই। সিপিএমের এই আভ্যন্তরীণ শোরগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার হুমায়ুন বলেন, "আমি দু'মাসের জন্য হেলিকপ্টারে ভাড়া করে প্রচার করব। জোট প্রার্থীদের হয়েও প্রচারে যাব।" তিনি বলেছেন, "সিপিএম-কংগ্রেস যদি আমার সঙ্গ দেয়, তাহলে ভালো। যে কংগ্রেস, যে সিপিএম শূন্য রয়েছে, আগামী দিনে তারা শাসকদলে পরিণত হবে।”
বেলডাঙায় তৈরি হচ্ছে তাঁর স্থায়ী হেলিপ্যাড, থাকবে স্ট্যান্ড বাই হেলিকপ্টারও। হুমায়ুন আরও বলেন, "সেলিম সাহেবকে আমি নিজে বলেছি, মুর্শিদাবাদে একটা সিটে দাঁড়াতে হবে। মানুষ ভোট যাতে দেয়, আমি দেখব। উনি রাজি হননি এখনও পর্যন্ত। আমি তো রানিনগরে ড. হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করেছি। যদি সেলিম সাহেব দাঁড়ান, আমি সেই আসন ছেড়ে দেব।”
হুমায়ুন আরও বলেন, "সেলিম সাহেবকে আমি নিজে বলেছি, মুর্শিদাবাদে একটা সিটে দাঁড়াতে হবে। মানুষ ভোট যাতে দেয়, আমি দেখব। উনি রাজি হননি এখনও পর্যন্ত। আমি তো রানিনগরে ড. হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করেছি। যদি সেলিম সাহেব দাঁড়ান, আমি সেই আসন ছেড়ে দেব।”
এনিয়ে এদিন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, "হুমায়ুন কবীর জোটে এলে হেলিকপ্টারের টোপ দিচ্ছেন। প্যাকেজ করে দিচ্ছেন। দেখুন হেলিকপ্টারের লোভে ট্র্যাকসুট পরে সেলিম চলে যাবেন।" কংগ্রেস আগ্রহ না দেখানোয় তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গড়তে ব্লক-বুথ স্তরের কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার জন্য সিপিএম নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন সেলিম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের এই মন্তব্যে 'ঘর ভাঙানোর হুমকি' হিসাবেই দেখছে কংগ্রেস।
