shono
Advertisement
Durga Puja

পুজোর অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত কলকাতার 'বিগ বাজেটে'র ক্লাবগুলির, সংশয় কী নিয়ে?

টালা থেকে টালিগঞ্জ, শহরের উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মতো মুখ্য়মন্ত্রীর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত তুলনামূলক ছোট ক্লাবগুলিও।
Published By: Sulaya SinghaPosted: 05:30 PM Jun 12, 2026Updated: 05:31 PM Jun 12, 2026

২০২৫ সালে রাজ্যের ৪৪ হাজার ক্লাবকে দুর্গাপুজোর জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় পালাবদলের পর ক্লাবগুলির অন্দরে প্রশ্ন জাগে, এবারও মিলবে অনুদান? শুক্রবার সেই কৌতূহল দূর করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানান, যে সমস্ত ক্লাব এই অনুদান ছাড়াই পুজো আয়োজনে সমর্থ, তারা পাবে না। তুলনায় যাদের প্রয়োজন, তাদের দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানাচ্ছেন কলকাতার জনপ্রিয় তথা বিগ বাজেটের ক্লাবগুলি।

Advertisement

গত বছর অভয়ার ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের পর শহর ও শহরতলির ছোট-বড় অনেক ক্লাবই প্রতিবাদস্বরূপ সরকারি অনুদান নিতে চায়নি। তাতে পুজো আয়োজনে কোনও প্রভাব পড়েনি।

উত্তর কলকাতার নামকরা পুজো কমিটিগুলির অন্যতম হাতিবাগান সর্বজনীনের প্রধান উদ্যোক্তা শাশ্বত বসু বলেন, "সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই তো সবটা নির্ভর করে। মুখ্যমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।" একই সুর হাতিবাগান চত্বরের আর এক ক্লাব হাতিবাগান নবীনপল্লি পুজো উদ্যোক্তা অমিতাভ রায়ের গলাতেও। তাঁর কথায়, "এমন সিদ্ধান্তে যদি ছোট ক্লাবগুলো উপকৃত হয়, তাহলে সার্বিকভাবে পুজো আরও সম্বৃদ্ধ হবে।" তবে সরকারের তরফে পুজো আয়োজন নিয়ে কী কী নির্দেশিকা জারি হবে, সেটাই এখন তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন। দক্ষিণ কলকাতার অতি জনপ্রিয় পুজো সমাজ সেবী সংঘের অরিজিৎ মৈত্র যেমন বলছেন, "এতদিনে পুজো সংক্রান্ত নানা রকম কাজ ক্লাবের তরফে শুরু হয়ে যায়। যেহেতু আমাদের পুজো রাস্তার খানিকটা অংশ বন্ধ করে করা হয়, সেক্ষেত্রে এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, সেই বিষয়টা জানতে পারলে সুবিধা হয়।" তাছাড়া প্রতিমা বানানোর ক্ষেত্রে এঁটেল মাটির সংকটও কাটছে না। সরকারকে এ নিয়েও পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে ক্লাবগুলি।

ফাইল ছবি

প্রসঙ্গত বলে রাখা যাক, গত বছর অভয়ার ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের পর শহর ও শহরতলির ছোট-বড় অনেক ক্লাবই প্রতিবাদস্বরূপ সরকারি অনুদান নিতে চায়নি। তাতে পুজো আয়োজনে কোনও প্রভাব পড়েনি। ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক সর্বজনীনের পুজো উদ্যোক্তা সঞ্জয় মজুমদারের কথার সেই স্মৃতিই যেন উসকে গেল। তিনি বলছেন, "অনুদান যখন পেতাম না, তখনও তো ধুমধাম করেই পুজো করেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। বরং আশপাশের তুলনামূলক কম বাজেটের ক্লাবগুলি সরকারি সাহায্য পেলে ভালো করে পুজো করতে পারবে। পুজোয় আমাদের এলাকা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে।" এদিকে শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বেহালা নূতন দলের কর্তা তথা ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সভাপতি সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের ৪৪ হাজার ক্লাব গত বছর ১ লক্ষ ১০ টাকা অনুদান পেয়েছে। রাজ্যজুড়ে দেখতে গেলে এমন ক্লাবের সংখ্যাই বেশি, যারা পুজোর জন্য সরকারি সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। বড় বাজেটের পুজো তো হাতে গোনা। সেক্ষেত্রে কীভাবে অনুদানের বিষয়টি ঠিক হবে, আর ক'টা ক্লাব বাদ পড়বে, সেটা দেখতে হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ক্লাবগুলি।

তিলোত্তমার পুজো। ফাইল ছবি

টালা থেকে টালিগঞ্জ, শহরের উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মতো মুখ্য়মন্ত্রীর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত তুলনামূলক ছোট ক্লাবগুলিও। যাদবপুর, আলিপুর, ভবানীপুর এলাকার পাড়ার কমিটিগুলি আরও একবার অনুদানের অর্থে পুজো আয়োজনের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তবে অন্যান্য বারের মতো এবারও মহালয়ার আগেই পুজো শুরু হবে কি না, কার্নিভাল হবে কি না, এমন নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজো আয়োজকদের অন্দরে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement