অর্ণব আইচ: বুরারি কাণ্ডের ছায়া এবার খাস কলকাতায়। সপরিবারে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন তিনজন। দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। মাটিতে অচেতন অবস্থায় লুটিয়ে পড়েছিল ১৫ বছরের ছেলে এবং বছর বিয়াল্লিশের মা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গড়ফায়।
গরফা থানার পূর্বাঞ্চল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ছেলে, মা এবং এক বৃদ্ধা থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শেষ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছিল ওই পরিবারের। তারপর থেকেই আর দেখা যায়নি তাঁদের। এদিন ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বেরতে থাকলে প্রতিবেশীরাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ৬৬ বছরের বাসন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ছেলে ও মাকে ভরতি করা হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে জানতে পারে, ঘুমের ওষুধ খেয়েই আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। এই পদক্ষেপ করার আগে কয়েকদিন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তাঁরা বলে অনুমান।
[মেট্রোয় মত্ত যুবককে নিয়ে বিড়ম্বনায় মহিলা যাত্রীরা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন]
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এও জানায়, ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে সপরিবার আত্মহননের চেষ্টা করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রতিবেশীদের মতে, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার উপর আর্থিক সংকটেও ভুগছিল গোটা পরিবার। ফলে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়েই ছেলে ও মাকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের ঘটনাই উসকে দিয়েছে দিল্লির বুরারিতে সপরিবারে আত্মহত্যার ঘটনাকে। যেখানে একই পরিবারের সব সদস্য গলায় ফাঁস লাগিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছিলেন। পরে জানা যায়, পরিবারের এক সদস্যের নির্দেশ মেনেই অন্ধবিশ্বাসের শিকার হয়েছিলেন প্রত্যেকে।
এদিকে, এদিনই আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি স্কুলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। পরে জানা যায়, অভিভাবকদের কাছে মোবাইলের আবদার করেছিল সে। কিন্তু তা না পাওয়াতেই হতাশ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। তারপরই আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই খবর।
