অভিরূপ দাস: অজানা জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। কামান হতে পারে আতসবাজি। গলগলে ধোঁয়াতেই পালাবে মশা। ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’ প্রবাদ মনে রেখে পুরনো বাজিগুলো কিনে আনুন। ছোটবেলার চরকি, রংমশাল, তুবড়িই বাঁচাতে পারে হুল ফোঁটানোর হাত থেকে। বাড়ির পাশের ঝোপ লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দিন হাউই। সে হাউই এফোঁড় ওফোঁড় করে দেবে মশককুলকে।
কীভাবে? আতসবাজি তৈরিতে মূলত ব্যবহার করা হয় পটাশিয়াম ক্লোরেট অথবা পটাশিয়াম নাইট্রেট। আগুন ধরালেই চিরচির শব্দে পুড়তে শুরু করে তা। এই সমস্ত রাসয়নিক মশার যম। বাজি ব্যবসায়ীরাই বলছেন, আতশবাজির ব্যবহার কমলেই মশার প্রকোপ বাড়ে। এমনটাই দেখা গিয়েছে। তাই দেদার বাজি পোড়ানোতেই লুকিয়ে আছে মশা তাড়ানোর মন্ত্র।
[কালীপুজোর বিসর্জনে ডিজে বাজলে গ্রেপ্তার হবেন উদ্যোক্তারা]
ক্রমশ অজানা জ্বরের ঘোরে আচ্ছন্ন হচ্ছে শহর থেকে শহরতলি। ঘরে ঘরে জ্বরের হানা। জানালায় জাল লাগিয়েও ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ল না তো এডিস ইজিপ্টাই। সর্বদা সজাগ বাসিন্দারা। সে হানায় নিরাপত্তারক্ষী হয়ে উঠতে পারে চরকি, তুবড়ি, রংমশাল, তারাবাজিরা। মশা তাড়াতে কাজে দেবে বাজির অনর্গল ধোঁয়া। পুরসভার পতঙ্গবীদ দেবাশিস বিশ্বাস যদিও এতে নতুন কিছু দেখছেন না। পুরনো দিনে মা-পিসিমাদের ধুনো দেওয়ার প্রযুক্তিকেই আতসবাজি ফিরিয়ে আনছে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আগে ধুনো দেওয়া হত। সেই ধোঁয়ায় মশা পালাতো। সেই হিসেবেই আতসবাজির ধোঁয়াতেও মশা পালাতে পারে। এতে নতুন কিছু নেই।” তবে বাজির সঙ্গে যদি সামান্য মশার ধূপ মিশিয়ে পোড়ানো যায় তবে কেল্লাফতে, বলছেন তিনি।
গত দশবছরের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালেই দেখা যাবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কালীপুজো এবছরই। ২০১৬ সালে কালীপুজো হয়েছিল ৩০ অক্টোবর, ২০১৫ সালে কালীপুজো হয়েছিল ১০ নভেম্বর। সেখানে এ বছর বর্ষা বিদায় নেওয়ার আগেই কালীপুজো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অক্টোবরে বৃষ্টিও খানিকটা বেশি হয়েছে। সেই কারণেই আনাচে কানাচে ভনভন করছে মশককুল।
[দেবী পালাতে পারেন, এই আশঙ্কায় ভক্তদের ‘নজরবন্দি’তে মা কালী]
শব্দবাজিতে বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে বহুদিন আগেই। পরিবেশবিদরা বলছেন, বাজি পোড়াবেন না। তাহলে উপায়? সূত্রের খবর, দিল্লি স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও এক সময় স্বীকার করে নিয়েছেন মশা আটকাতে সত্যিই কাজে দেয় অন্যান্য আতশবাজি। তাই এখনও কিন্তু কিন্তু করছেন যারা। তাঁরা নির্ভয়ে চলে আসতে পারেন আতসবাজির পসরায়। বাজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আতসবাজিতে আগে প্রচুর পরিমাণ গন্ধক-সালফার ব্যবহার করা হত। তাতে মশা মরত। হতে পারে তাতে দূষণ হত। তবে বাজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডেঙ্গুর মতো মারণ বিপদ আটকাতে ছোট বিপদকে অভ্যর্থনা জানানো যেতেই পারে।
কথা প্রসঙ্গে এক বাজি প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী জানিয়েছেন, “ভাবুন তো ১০ বছর আগেও এত ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ছিল? মা কাকিমারা সন্ধেবেলা ধুনো দিলে মশা চলে যেত। এখন সেই ধুনো দেওয়ার দিন চলে গিয়েছে। ফলে মশা, পোকামাকড়ের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। সারা বাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান বাবলা রায় বলেছেন, আতসবাজি যত বেশি করে ফিরে আসবে তত মশাবাহিত রোগ কমবে। কারণ বাজির ধোঁয়াতে মশা ও পোকামাকড় মরে যায়। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার আশঙ্কাও কমে।
The post মশা মারতে এবার বেশি করে বাজি পোড়ানোর নিদান appeared first on Sangbad Pratidin.
