shono
Advertisement

Breaking News

Kidney donation

প্রাণের দাম নথির চেয়ে বেশি! অনাত্মীয়ের কিডনি দানে নজিরবিহীন রায় হাই কোর্টের

রক্তের সম্পর্কই কি সব? অনাত্মীয়ও তো কখনও কখনও হয়ে ওঠেন অনেক আপন। আর তা যদি হয় প্রাণরক্ষার মতো মহৎ কাজ। সেকথা মাথায় রেখেই কিডনি দান নিয়ে নজিরবিহীন নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের।
Published By: Sayani SenPosted: 10:51 AM Jul 31, 2026Updated: 01:34 PM Jul 31, 2026

রক্তের সম্পর্কই কি সব? অনাত্মীয়ও তো কখনও কখনও হয়ে ওঠেন অনেক আপন। আর তা যদি হয় প্রাণরক্ষার মতো মহৎ কাজ। সেকথা মাথায় রেখেই কিডনি দান নিয়ে নজিরবিহীন নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court)।

Advertisement

মামলাকারী সুনীতা খাঁড়া। তাঁর স্বামী চিন্টুর দুটি কিডনিই অকেজো। কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া কোনও গতি নেই। অসুস্থতার খবর শুনে পাশে দাঁড়ান একসময়ে বাড়ির গাড়িচালকের স্ত্রী রূপা সাহা। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে তিনি জানান, স্বেচ্ছায় অসুস্থ চিন্টুকে নিজের একটি কিডনি দান করতে চান। তবে 'অথরাইজেশন কমিটি'র তরফে বাধা আসে। জানানো হয়, দাতা ও গ্রহীতা অনাত্মীয়। তাঁদের দু'জনের পরিচিতির কোনও নথিভিত্তিক প্রমাণ নেই। তাই কিডনি দানে সবুজ সংকেত দেওয়া সম্ভব হয়। তাই বাধ্য হয়ে চিন্টুর স্ত্রী হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
তাঁর হয়ে আদালতে মামলা লড়েন আইনজীবী অরিত্র বসু এবং মৈত্রেয়ী রায়।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলা ওঠে। বৃহস্পতিবার রূপার কিডনি দানের ইচ্ছাপ্রকাশ সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ডিং আদালতে পেশ করা হয়। রূপা আদালতে দাবি করেন, তিনি প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশে অনুপ্রাণিত। মানুষের প্রাণ বাঁচানো ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন। তা দেখার পর আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০১৪-১৫ সাল থেকে রূপা এবং অসুস্থ চিন্টুর পরিবারের পরিচিতি। সেই সময় রূপার স্বামী চিন্টুর গাড়িচালকের কাজ করতেন। রূপাদের গৃহপ্রবেশে চিন্টু ও তাঁর স্ত্রী গিয়েছিলেন। সুতরাং বিপদের দিনে একে অপরের পাশে থাকতেই পারেন। নিকটাত্মীয় না হলে কিডনি দান বেআইনি নয়। সব সম্পর্ক নথি দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আদালতের দাবি, 'অথরাইজেশন কমিটি'র কাজ কিডনির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা। সত্যিই স্বেচ্ছায় রূপা কিডনি দিচ্ছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে ওই কমিটিকে। তবে সম্পর্কের নথি কখনও প্রাণ বাঁচানোর পথে বাধা হতে পারে না। বিচারপতি রাওয়ের নির্দেশ, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে নতুন করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রোগীর পরিবার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement