ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো মামলায় এবার জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতারা। বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভে ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস গ্রেপ্তার হন। তাঁকে চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সোমবার আলিপুর আদালতে এই মামলাতেই জামিন পেলেন অতনু দাস। প্রদীপ প্রসাদ আর আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনও মঞ্জুর করে আদালত। এদিন আলিপুর আদালতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতাদের দাবি, 'সত্যের জয়' হয়েছে।
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া বিতর্কে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভের নামে ছবি মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্ন্যাসীর ছবি পোড়ানো নিয়ে অশান্তির জের গড়িয়েছিল বহু দূর। ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভে ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অতনু দাস নামে এক কংগ্রেস কর্মী গ্রেপ্তার হন। এই মামলায় দলের দুই নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকে থানায় তলব করা হয়েছিল রবিবার। সেখানে হাজিরা দিয়ে আশুতোষ ও প্রদীপরা জানিয়েছিলেন, "আমরা শুধু থানার সামনে বিক্ষোভ করছিলাম। কারও ছবি পোড়ানো হয়নি। বিক্ষোভ যখন প্রায় শেষের মুখে, তখন একটি মিডিয়া চ্যানেলের প্রতিনিধিরা এসে জানান, তাঁদের বিক্ষোভের কিছু ফুটেজ চাই। সেকথা শুনে আমাদের কয়েকজন কর্মী অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে অন্যদিকে গিয়ে ফের বিক্ষোভ দেখান। সেখানেই পোড়ানো হয় বাগেশ্বরের ছবি। মাঝে আমরাও জড়িয়ে যাই। কিন্তু কোনও ছবি পোড়ানোয় আমরা ছিলাম না।”
আশুতোষদের এই বয়ানকে অবশ্য কটাক্ষ করে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বলেছিলেন, ‘‘ওঁদের এই বয়ানেই বোঝা যায় যে টিভি চ্যানেলে মুখ দেখানোর জন্য কংগ্রেস যা খুশি করতে পারে। একজন সনাতন সাধুর ছবি পোড়াতেও ওরা পিছপা হয় না। এটাই রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস। ক্ষমতা থাকলে ওরা একজন পীর বা মৌলানার থবি পুড়িয়ে দেখাক।” এই মামলায় সোমবার ধৃত কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে ফের আদালতে তোলা হয়। শুনানিতে কংগ্রেস নেতার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আলিপুর আদালত। একইসঙ্গে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকেও জামিন দেয় আদালত।
