shono
Advertisement
Calcutta High Court

সৎ বাবাদেরও রয়েছে পূর্ণ পিতৃত্বের অধিকার, ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাই কোর্টের

আইনি জটে মুক্তি সন্তানদের। বিবাহবিচ্ছিন্না দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে সন্তান তার সৎ বাবার নাম জন্ম শংসাপত্রে ব্যবহার করতে পারবে।
Published By: Subhankar PatraPosted: 09:03 AM Aug 30, 2026Updated: 01:22 PM Aug 30, 2026

এযাবৎ কাল শিশুর জন্ম শংসাপত্রে থেকে এসেছে তার জন্মদাতা বাবার নাম। সেক্ষেত্রে সন্তানের জন্ম গ্রহণের কিছুদিন পর যদি বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তাঁরা যদি অন্যত্র সংসার শুরু করেন তাহলেও শিশুকে বাঁচতে হত পুরনো পরিচয়ে। কিন্তু সম্প্রতি এক নির্দেশে এই অবস্থার পরিবর্তন আনল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। এবার থেকে শিশুর জন্মের পর যদি তাঁর বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ও মায়ের দ্বিতীয় বার বিয়ে হয় সেক্ষেত্রে শিশু যাঁর কাছে থাকুক না কেন, তাকে নতুন বাবার পরিচয়ে বাঁচার সুযোগ করে দিল আদালত। পূর্ব বর্ধমান পুরসভা এলাকার একটি মামলায় এমনই যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। শিশুর জন্ম শংসাপত্রে এই বড় বদলের ছাড়পত্র দিয়েছে উচ্চ-আদালত।

Advertisement

আইনি জটে মুক্তি সন্তানদের। বিবাহবিচ্ছিন্না দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে সন্তান তার সৎ বাবার নাম জন্ম শংসাপত্রে ব্যবহার করতে পারবে।

মামলায় আবেদনকারীর দাবি, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে শুভঙ্কর কর্মকার নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। পরে দাম্পত্য কলহের কারণে ২০২১ এর অক্টোবর মাসে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০২২ মার্চ মাসেই তিনি রাজেশ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আবেদনকারীর বক্তব্য, বিচ্ছেদের পর আবার নতুন করে সংসার পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর সন্তানের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। শিশুর জন্ম শংসাপত্রে জন্মদাতা বাবার নাম থাকায় স্কুলে ভর্তি হতে বিপত্তি দেখা যায়। নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিতে সৎ-বাবার আপত্তি না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় আইন। আইনি জটিলতায় পূর্ব বর্ধমান পুরসভা শিশুর জন্ম শংসাপত্রে দ্বিতীয় বাবাকে স্বীকৃতি দিচ্ছিল না। যা নিয়েই মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে।

প্রাথমিকভাবে পুরসভা বিষয়টি মানতে চায়নি। আসলে পুরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, একবার বার্থ সার্টিফিকেটে শিশুর নাম ও তার বাবার নাম যুক্ত হয়ে গেলে সেই বাবার নাম বদল করা যায় না। তবে ওই শিশুকে নিজের সন্তান হিসাবে মেনে নিয়েছেন বর্তমান বাবা। তাঁর আইনজীবী জানান, "শিশু বর্তমানে তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে থাকে। আর ওই শিশু তার সৎবাবাকে তার নিজের বাবা হিসাবে মেনে নিয়েছে। এবার বার্থ সার্টিফিকেটে তার বাবার নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন ওই শিশুর মা। কিন্তু এনিয়ে কোনও নির্দিষ্ট আইন না থাকায় পুর-কর্তৃপক্ষ মান্যতা দিচ্ছিল না।"

আদালতে শিশুর জন্মদাতা বাবাও হাজির হয়ে জানান, এই আইনি পক্রিয়ায় তাঁর কোনও বাধা নেই। আর সেখানেই মান্যতা দিয়েছে আদালত। বিচারপতি বসু চৌধুরীর নির্দেশ, অবিলম্বে পুর কর্তৃপক্ষকে ওই শিশুর নতুন করে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে কারওর 'হাইপার টেকনিক্যাল' হওয়ার দরকার নেই। পরিস্থিতির সঙ্গে ওই শিশুর জন্ম সংক্রান্ত নথি সংশোধন করা দরকার। আদালত সুপ্রিম কোর্টের আকেলা ললিতা মামলা ও ১৯৬৯ সালের জন্ম-মৃত্যু আইনের ১৫ ধারা উল্লেখ করে বলে, "সমাজ এগিয়েছে, রেজিস্টারে জৈবিক বাবার নাম ধরে রাখা জরুরি নয়।" তবে, নাবালক শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার ইচ্ছানুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাপেক্ষে উক্ত সনদটি ইস্যু করা হবে। ইস্যুকৃত সনদে পূর্ববর্তী সনদের ক্রমিক নম্বর এবং ইস্যুর তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement