আর একদিনও সময় নয়। আজই সই জাল কাণ্ডে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। তবে সূত্রের খবর, হাজিরার নির্দেশ দিলেও তাঁকে খানিকটা স্বস্তিও দিয়েছে আদালত। ২১ দিনের জন্য রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে অভিষেককে।
সই জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডির নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এদিকে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বুধবার দিল্লি থেকে ফেরার কথা থাকলেও স্রেফ গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় তিনি রাজধানীতেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে ছিল অভিষেকের মামলার শুনানি। সেখানে অভিষেককে রীতিমতো ধমক দেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। কেন বারবার হাজিরা এড়াচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই কড়া ভাষায় বলেন, "আপনি হাজিরা এড়াচ্ছেন কেন? কখন সিআইডির কাছে যাবেন ১০ মিনিটের মধ্যে জানান। তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে।"
আদালত সূত্রের খবর, এরপরই বিচারপতি চন্দ নির্দেশ দেন, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৬ টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সভাপতি। বিকেল ৪ টেয় কলকাতা ফেরার কথা তাঁর। সেই কারণেই ৬ টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে হাজিরার নির্দেশের পাশাপাশি রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ২১ দিন গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। অর্থাৎ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হলেও এই মুহূর্তে গ্রেপ্তারির ভয় নেই অভিষেকের। এদিন অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা তারা করবেন। প্রয়োজনে সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত জেরা করলেও সমস্যা নেই।
কী এই সই জাল কাণ্ড? সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।
