shono
Advertisement
Goonda Act over the assault on police and journalists

ধর্মতলায় পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহে প্রথম গুন্ডাদমন আইন, 'এমন ব্যবস্থা করব, ৩ পুরুষ মনে রাখবে', হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

ইতিমধ্যেই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় '৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা কেউ ছাত্র নন, ককরোচ পার্টির সদস্য নন।' ‘ককরোচ’ সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়া ‘বহিরাগত’দের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।
Published By: Arpita MondalPosted: 11:33 AM Jul 25, 2026Updated: 01:49 PM Jul 25, 2026

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কলকাতায় মিছিল ও জমায়েতে তুমুল বিশৃঙ্খলা। প্রতিবাদের নামে কার্যত 'জঙ্গিপনা' হয়েছে। এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করে শাস্তি। 'এমন ব্যবস্থা করব, ৩ পুরুষ মনে রাখবে' বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ইতিমধ্যেই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় '৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা কেউ ছাত্র নন, ককরোচ পার্টির সদস্য নন।' ‘ককরোচ’ সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়া ‘বহিরাগত’দের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। বলে রাখা প্রয়োজন, ধর্মতলার বিশৃঙ্খলার ঘটনাতেই প্রথম গুন্ডাদমন আইন লাগু হল এ রাজ্যে। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন ও গণপিটুনির ঘটনায় গুন্ডাদমন মামলা রুজু হওয়ার কথা থাকলেও, ঘটনাটি যে সময় ঘটেছে, সে সময় গুন্ডাদমন বিলের প্রস্তাব হলেও তা আইন পরিণত হয়নি। 

Advertisement

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কলকাতায় মিছিল ও জমায়েতের ঘটনায় দায়ের হয়েছে মোট ৭টি এফআইআর। হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হয়েছে ৬ টি এফআইআর। এন্টালি থানায় দায়ের একটি মামলা। এর মধ‍্যে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, বিক্ষোভকারীরা পতাকা, ব্যানার ও গাড়ি নিয়ে রাস্তা দখল করতে শুরু করে। পুলিশের দাবি, জনতাকে উসকানি দিয়ে পুরো ডোরিনা ক্রসিং দখল করার ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, বারবার মাইকিং করে জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এলাকা খালি করতে বলা হলেও তা কানে তোলেনি বিক্ষোভকারীরা। বরং পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছুড়তে শুরু করেন তারা। ঘটনাস্থলে কর্মরত সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয় শুক্রবারের জমায়েতে। 

শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, "গতকালের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা যুক্ত হবে। এখনও পর্যন্ত মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা একজনও ছাত্র নন। ককরোচ পার্টির সদস্য নন। যারা আন্দোলনকারীদের অংশ নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।"

পুলিশের দায়ের করা মামলায় বেআইনি জমায়েত, অশান্তি ছড়ানো, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের মারধর করা, রাস্তা অবরোধ, উসকানি ও বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি আদেশ অমান্য করা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, "গতকালের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা যুক্ত হবে। এখনও পর্যন্ত মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা একজনও ছাত্র নন। ককরোচ পার্টির সদস্য নন। যাঁরা আন্দোলনকারীদের অংশ নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।"

ধর্মতলায় বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি। ককরোচ মার্চ ব্যানারে কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। পুলিশকে নির্দেশ ছিল সংযত থাকার, কোনও বলপ্রয়োগ না করার। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। আন্দোলন তো গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেখানে গন্ডগোল হল। ককরোচ পার্টি বলেছে, বামপন্থীদের ছাত্র সংগঠন গুলো ঢুকে পড়ে। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, ডিএসও, এআইএসএফ সহ অনেকেই সেখানে ছিল। যাঁরা অনেকেই ছাত্র নন, নিটের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। ভোটে হারারা রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, গার্ডেনরিচ, নিউটাউন থেকে সব এসেছে। ডোরিনা ক্রসিংয়ে পুলিশকে জলের বোতল-জুতো ছুড়েছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে।"

বিশৃঙ্খলায় পূর্ব পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠিচার্জ করুক। গ্যাসের সেল ফাটাক। ঝামেলা বাড়ুক। তাহলে নাটক জমবে। পুলিশ সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। কিন্তু ওরা হামলা চালিয়ে গেছে। অল্পবিস্তর জখম কয়েকজন সাংবাদিক। তবে গুরুতর জখম ছ'জন সাংবাদিক। মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সব ক্ষেত্রে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত হয়েছে।" পাশাপাশি চার 'কুখ্যাত' দুষ্কৃতীর নাম ধরে ধরে কড়া হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "রাজাবাজারের আফরোজ, খিদিরপুর থেকে নাহিন,  একবালপুরের তানভির, রাহুল জামাল ওয়াটগঞ্জের। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।"

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "রাজাবাজারের আফরোজ, খিদিরপুর থেকে নাহিন, একবালপুরের তানভির, রাহুল জামাল ওয়াটগঞ্জের। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।" তিনি স্পষ্ট জানান, "সিপিএম নেত্রী তো আগেই বলেছিলন, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়বে, সবাই জলের বোতল নিয়ে যান। সেই সব ছোড়া হয়েছে পুলিশকে। হেনস্তা করা হয় সাংবাদিকদের। ডিমও ছোড়া যেমন বাংলার সংস্কৃতি নয়। তেমন বোতল-জুতো ছোড়াও সংস্কৃতি নয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" বলে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর। সাংবাদিকদের উপর নিগ্রহের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুভেন্দু জানান, আজ দুপুরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে বিজেপি বিধায়করা বুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement