গৌতম ব্রহ্ম: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধরনাকে রাজ্য বিজেপি বিশেষ গুরুত্ব দিতে না চাইলেও কেন্দ্রীয় স্তরে যে এর ভালই প্রভাব পড়েছে, সেটা মোদি সরকারের একের পর এক পদক্ষেপে প্রমাণিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা শেষ হওয়ার চারদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় রাজ্যকে বকেয়া টাকা পাঠাল কেন্দ্র। গ্রাম সভা, পঞ্চায়েতগুলোর জন্য ৯৭৯.১৫ কোটি টাকা দিল মোদি (Narendra Modi) সরকার।
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম সভার মতো স্থানীয় প্রশাসনের জন্য কেন্দ্রের থেকে একটা বরাদ্দ আসার কথা। এটি একেবারে রুটিন প্রক্রিয়া। এই খাতে ৬ টি রাজ্যের জন্য মোট ৪২১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। তার মধ্যে মহারাষ্ট্র পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। তারা পেয়েছে ১০৮৩.৪৯ কোটি টাকা। বাংলা পেয়েছে ৯৭৯.১৫ কোটি টাকা। তবে এটা যেহেতু টায়েড ফান্ড, তাই যে খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে সেই খাতেই খরচ করতে হবে। অন্য কোনও খাতে খরচ করা যাবে না।
[আরও পড়ুন: কর্ণাটকে গোরক্ষক বাহিনীর হাতে মুসলিম ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড: ধৃতের বিজেপি ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে]
এছাড়াও গোয়া, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে এই টাকা গ্রামের স্থানীয় প্রশাসনকে বরাদ্দ করতে হবে। অর্থাৎ যে সব পঞ্চায়েতের এলাকা বড় এবং জনসংখ্যা বেশি, তারা বেশি বরাদ্দ পাবে। যেখানে এলাকা ছোট ও জনসংখ্যা কম তাদের জন্য বরাদ্দ আনুপাতিক হারে কম হবে। ঘটনাচক্রে বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগে আগে এই টাকা বাংলায় এসে পৌঁছল। ফলে পঞ্চায়েত স্তরে যা যা কাজ বাকি পড়ে আছে, সেগুলি করতে এই টাকা খরচ করা যাবে।
[আরও পড়ুন: নৃশংস, ডিজে’র মিউজিক বন্ধ করতে বলায় অন্তঃসত্ত্বাকে গুলি প্রতিবেশীর! নষ্ট ভ্রূণ]
তবে গ্রাম সভা, পঞ্চায়েতগুলোর বরাদ্দ পেলেও রাজ্যের বড় বড় যে বকেয়া সেগুলি নিয়ে অবশ্য নরেন্দ্র মোদির সরকার এখনও নীরব। ১০০ দিনের কাজ বাবদ রাজ্যের বকেয়া প্রায় ৭ হাজার কোটি। আবার আবাস যোজনার বকেয়ার পরিমাণ ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বাবদও বিপুল টাকা পাওনা রাজ্যের। যদিও কোনও টাকা নিয়েই কেন্দ্র এখনও উচ্চবাচ্চ করেনি।
