পথ নিরাপত্তায় সারা বছরই নিয়মিত প্রচার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশজুড়ে পুলিশ-প্রশাসনের ধারাবাহিক কর্মসূচি লেগেই রয়েছে। তা সত্ত্বেও পথদুর্ঘটনা এবং মৃত্যু কমছে কোথায়? সাম্প্রতিককালে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর একটি পরিসংখ্যান প্রশাসনের যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। তাই দেশে পথ নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে তুলতে রোড সেফটি নেটওয়ার্কে 'প্রমাণভিত্তিক নীতির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন' নামে একটি গবেষণার কাজ করছে আইআইটি খড়গপুরের নিউটাউন শাখা।
এই প্রতিষ্ঠানের একটি সমীক্ষা বলছে, স্রেফ ২০২৪ সালে ভারতজুড়ে পথদুর্ঘটনায় ১.৮ লক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে। এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সমীক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে দেশের পথ নিরাপত্তাকে আরও কীভাবে মজবুত করা যায় এবং দুর্ঘটনা রোধে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার আইআইটি খড়গপুরের নিউটাউন শাখায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকারি নীতি নির্ধারক প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ দল, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন রাজ্য নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের বিশেষ সচিব পাপিয়া ঘোষ রায়চৌধুরি, গৌতম সিং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. মহম্মদ আশহিল, এবং এস. সরোজা।
স্রেফ ২০২৪ সালে ভারতজুড়ে পথদুর্ঘটনায় ১.৮ লক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে। এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সমীক্ষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, ২০২৪ সালে দেশে দুর্ঘটনায় ১.৮ লক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা ২০৩০ সালে মধ্যে ৫০ শতাংশ হারে কমানোর টার্গেট রাখা হয়েছে। সেই লক্ষ্যপূরণে ইতিমধ্যে জোরকদমে কাজও শুরু করেছেন আইআইটি গবেষকরা। দুর্ঘটনা ঠেকাতে অন্যতম উপায় রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এছাড়াও রয়েছে নিরাপদ নগর করিডর, প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, শিশু নিরাপত্তা, সিট বেল্ট ব্যবহার-সহ দীর্ঘমেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া। আইআইটি খড়গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ভার্গব মৈত্র মনে করিয়ে দেন, গাড়ির অতিরিক্ত গতির জেরে ৬২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
