ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি। সই জাল কাণ্ডে আজ, সোমবার তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে রাজ্য গোয়েন্দাদের কাছে আবেদন জানান অভিষেক। কিন্তু এর মধ্যেই ফের তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। করা হয় গোটা বাড়ির ভিডিওগ্রাফি। তদন্তকারীদের দাবি, কোথাও কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। সবটাই ক্যামেরাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এরপরেই একটি নোটিস ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ধরানো হয়েছে বলে খবর।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে রাজ্য গোয়েন্দাদের কাছে আবেদন জানান অভিষেক। কিন্তু এর মধ্যেই ফের তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। করা হয় গোটা বাড়ির ভিডিওগ্রাফি।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষরে গরমিল ধরা পড়ায় বিধানসভার সচিব এফআইআর দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তে নেমে একাধিক বিধায়ককে নোটিস ধরায়। এ প্রসঙ্গে নোটিস দিয়ে তলব করা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। শনিবার তিনি এই নোটিস পাওয়ার পর সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে ব্যাপকভাবে জনরোষের শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম-জুতো ছোড়া, জামা ছিঁড়ে মারধর করা হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় ছোড়া ইটের আঘাত থেকে বেঁচে যান। পরে দুটি হাসপাতালে অভিষেকের চিকিৎসা হয়। আপাতত তিনি বাড়িতেই হাসপাতালের পরিকাঠামোয় বিশ্রামে রয়েছেন। চলছে পেন কিলার-সহ একাধিক ওষুধ।
এই অবস্থায় ভবানীভবনে গিয়ে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে সিআইডিকে জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের পরামর্শেই এই চিঠি পাঠানো হয়। এহেন চিঠি পাওয়ার পরেই ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডির একটি দল। তবে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারেননি সিআইডি আধিকারিকরা। বাড়ির বাইরেই অপেক্ষা করেন তাঁরা। এরপরেই অভিষেকের বাড়িতে কাজ করেন এই আধিকারিকরা একটি নোটিস তদন্তকারী সংস্থার তরফে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
বিধানসভায় সই বিতর্কে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এহেন বিতর্কের মধ্যেই এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায়। শুধু তাই নয়, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে বিষয়টি জানার পরেই ঘটনায় সিআইডিকে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ তিনি দেন বলে এদিন নবান্নে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এহেন মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মাথায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের। শুধু তাই নয়, সেই তদন্তের সূত্র ধরে শনিবারের পর আজ, সোমবার ফের অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি।
