গয়নার দোকানে ব্যবসার কথা বলতে এসেছিল স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু গয়নার দোকানের মালিক বা কর্মচারীরা ক্ষণিকের জন্যও বুঝতে পারেননি যে, আসলে ওই দম্পতি ‘বান্টি-বাবলি’র নামান্তর। প্রায় পৌনে দু’লাখ টাকার দু’টি চুনি-পান্না হাতিয়ে পালাল ‘বান্টি-বাবলি’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বেহালার রায়বাহাদুর রোডে গয়নার দোকানে পৌঁছয় ওই দম্পতি। নিজেদের একটি গয়নার দোকানের মালিক বলে পরিচয় দেয়। বেহালার ওই গয়নার দোকানের মালিককে দম্পতি জানায়, তাদের দোকানে অনেক খদ্দেরই বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না তৈরি করতে আসেন। সোনা ও রুপোর গয়নার সঙ্গে সঙ্গে খদ্দেরদের চাহিদা রয়েছে দামী পাথরের। তাই এবার থেকে তারা দোকানে দামী পাথরও বিক্রি করবে। যেহেতু বেহালার ওই দোকানটির গয়না ও পাথর বিক্রির ক্ষেত্রে সুনাম রয়েছে, তাই দোকানের মালিকের সঙ্গে তারা ব্যবসা করতে চায় বলে জানায়। বেশ কিছু পাথর দেখে পছন্দ করবে বলেও জানায়।
দম্পতিকে দেখে দোকানের মালিক বা কর্মচারী কারও সন্দেহ হয়নি। তাঁরা নিজেদের স্টক থেকে দামী পাথর বের করেন। বেশিরভাগ পাথরই ওই দম্পতি হাতে নিয়ে দেখতে শুরু করে। তারা পাথরগুলি দেখে সেগুলির দাম নিয়েও প্রশ্ন করতে থাকে। পুলিশের মতে, ‘স্বামী-স্ত্রী’ বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি ও মহিলার মধ্যে একজন কথার মাধ্যমে কর্মচারীদের ব্যস্ত রাখে। অন্যজন হাতের কায়দায় একটি বড় মাপের পুরনো বর্মা চুনি ও অন্য একটি জাম্বিয়ান পান্না হাতিয়ে নেয়। তখনও কেউ কিছু বুঝতে পারেননি। পাথরগুলি দেখার পর তারা জানায়, এবার দেখে গেলেও কিছুদিনের মধ্যে একাধিক পাথর নগদ টাকায় কিনে নিয়ে যাবে।
দম্পত্তি চলে যাওয়ার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর দোকান বন্ধ করার সময় যখন স্টক মেলানো হচ্ছে, তখনই বোঝা যায় যে, প্রায় পৌনে দু’লাখ টাকার একটি চুনি ও একটি পান্না উধাও। তখনই সন্দেহের বশে তাঁরা দোকানের সিসিটিভি খতিয়ে দেখেন। দোকানের মালিকের অভিযোগ, ওই দম্পতিই হাতের কায়দায় হাতিয়ে নিয়েছে ওই চুনি ও পান্না। বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই ভিত্তিতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নিজেদের যে দোকানের নাম দম্পত্তি উল্লেখ করেছিল, সেটি ভুয়ো অথবা অস্তিত্ব থাকলেও তাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে পুলিশের অভিমত। সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমেই ‘বান্টি-বাবলি’র সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
