বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ আচমকাই চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্য পুলিশের সিআইডি গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সইটি আদৌ তাঁর কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। সেই মামলাটিই সিআইডিতে হস্তান্তর হয়। জানা গিয়েছে, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃণমূল বিধায়েকোর বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। এদিন সিআইডির ৬ সদস্যের টিমে ছিলেন হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞরাও।
বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সিআইডি টিম পৌঁছে যায় নয়নার বাড়িতে। সে সময় তিনি বাড়িতে থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা এবং সিআইডির তরফে গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
এদিন দুপুরে বিধায়কের বাড়িতে প্রথম যখন সিআইডি পৌঁছয়, তখন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গিয়েছে, ইদের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর ফের বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সিআইডি টিম পৌঁছে যায় তাঁর বাড়িতে। সে সময় তিনি বাড়িতে থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা এবং সিআইডির তরফে গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তিনি আরও জানান, "আমি পাঁচবারের বিধায়ক। ২০০১ সালে যখন প্রথম বিধায়ক হই, তখন রাজ্যে বামফ্রট সরকার। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আগে কখনও হতে হয়নি। এটা শকিং। আমি শোভন দাকে বিষয়টি জানিয়েছি। শোভনদার সঙ্গে কথা বলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়কে জানাব কি না ভেবে দেখছি।"
তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "৬ মে বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে একটি মিটিং ছিল। সেই সময় দলের সিদ্ধান্তে ফর্ম্যাট রেডি করা হয়। সেখানেই সই করেছিলাম। সইয়ের বদলে ক্যাপিটালে নাম লিখেছিলাম। সেই সই করা কাগজ এখন সিআইডি আমাকে দেখাচ্ছে। আমি বলেছি এটা আমারই হাতের লেখা।" তিনি আরও জানান, "আমি পাঁচবারের বিধায়ক। ২০০১ সালে যখন প্রথম বিধায়ক হই, তখন রাজ্যে বামফ্রট সরকার। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আগে কখনও হতে হয়নি। এটা শকিং। আমি শোভন দাকে বিষয়টি জানিয়েছি। শোভনদার সঙ্গে কথা বলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়কে জানাব কি না ভেবে দেখছি।" জানা গিয়েছে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যান কার্ডও এদিন খতিয়ে দেখেন সিআইডি আধিকারিকরা।
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের চৌরঙ্গির পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক বলেন, "নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় আর ওঁর স্বামীর নামে অনেক অভিযোগ আছে। সই নিয়েও দু'নম্বরি করতে পারে।" সইয়ের মতো সামান্য কারণে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের।
