shono
Advertisement

পঞ্চায়েতে খারাপ পারফরম্যান্সের ফল, সরছেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী

সংগঠনের কাজে আরও মন দিক, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Posted: 08:29 PM Jun 05, 2018Updated: 08:44 PM Jun 05, 2018

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জণ ছিলই, এবার তা সত্যিও হল। শেষ হয়েছে পঞ্চায়েত ভোট। তারপরেই বড়সড় রদবদল ঘটল রাজ্য মন্ত্রিসভায়। কোপ পড়ল তিন মন্ত্রীর দায়িত্বে। পদ খোয়ালেন মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতো, জেমস কুজুর ও অবনীমোহন জোয়ারদার। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা করেছেন তিন সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে তাঁদের দায়িত্ব কাদের দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

[গোপন অভিযানে বাগদা থানার জালে একাধিক সমাজবিরোধী]

অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন চূড়ামণি মাহাতো। জঙ্গলমহল তথা ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক তিনি। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বিধায়ক জেমস কুজুর ছিলেন আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে। অতীতে কারাদপ্তরের দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে দপ্তরহীন ছিলেন অবনীমোহন জোয়ারদার। এনাদের মধ্যে চূড়ামণি মাহাতো ও জেমস কুজুরকে কাজে দীর্ঘদিন ধরেই নাখুশ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল প্রশাসনিক স্তরেই নয়, দলীয়স্তরেও এই দুই মন্ত্রীর নামে তাঁর কাছে জমা পড়েছিল একাধিক অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এই দুই মন্ত্রীকে মঙ্গলবার নিজেই পদত্যাগ করতে বলেন মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশের পরেই নিজ নিজ পদত্যাগ পত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিদ্বয়। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলীয় কাজে যাতে বেশি সময় দিতে পারেন তাই এনাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অবনীমোহন জোয়ারদারকে শারীরিক কারণে সরানো হয়েছে। এনাদের দপ্তরগুলির দায়িত্বে কে কে আসতে চলেছেন, সেই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ, কোনও একটি দপ্তরের দায়িত্বে দেওয়া হতে পারে ঝাড়গ্রামের বিধায়ক সুকুমার হাঁসদাকে। চলতি মাসের শেষের দিকেই চিন সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সমস্ত দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে সূত্রের খবর।

[অযোধ্যা পাহাড়ে বিদায়ী সভাধিপতির ছেলের নির্মীয়মাণ রিসর্টের কাজ বন্ধ করল প্রশাসন]

সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত ভোটে রেকর্ড ধরে রেখে অসাধারণ ফল করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে রাজ্যের বেশিরভাগ গ্রামে কার্যত দাঁত ফোটাতে পারেননি বিরোধীরা। সব জেলা পরিষদ গিয়েছে ঘাসফুলের ঝুলিতে। কিন্তু শাসকের সুখশয্যাকে কণ্টকময় করে তুলেছে জঙ্গলমহল। সেখানে নিজেদের রাশ ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো একাধিক জেলায় শাসকের অগোচরেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে বিজেপি। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের মতো নিজেদের গড়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তৃণমূলের। যে আদিবাসী আবেগকে মূলধন করে ৩৪ বছরের বাম জমানার ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের নির্বাচনে তাঁর দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেই আদিবাসী সমাজ। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের রাগ নয়, তাঁদের ক্ষোভ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপরে। তৃণমূলের হাইকমান্ডের কাছে অনেকদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল চূড়ামণির নামে। সেই কারণেই মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হল তাঁকে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঠিক একই ভাবে আলিপুরদুয়ারে কিছুটা হলেও নিজেদের উপস্থিতির ছাপ ফেলতে পেরেছ বিজেপি। কিন্তু তাদের জমি ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির। ঠিক সেই কারণে সংগঠনের কাজে আরও মন দেওয়ার জন্য জেমস কুজুরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement