দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদের ভোট না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল বিরোধীদের। নতুন সরকার আসার পর সেই অধরা কাজ যাতে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য বারবার দাবি উঠেছে। এনিয়ে 'আসল' তৃণমূলের খোদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, সংঘর্ষের ঘটনার পর রাজ্য সরকারও ছাত্র ভোট নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল। শুক্রবার তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেন। যাদবপুরে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘‘ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে, কলেজে কলেজ গেরুয়া আবির উড়বে।''
এদিন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র ভোট নিয়ে মুখ খুললেন। তাঁর কথায়, ‘‘শিগগিরই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। সব জায়গায় জিতবে এবিভিপি। কলেজে কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির। আর কারও কোনও সুযোগই নেই।''
আসলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র লক্ষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বাম ছাত্র সংগঠনকে সংসদের ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দখল নেওয়া। সম্প্রতি ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনার পর বিজেপি, এবিভিপির দাবি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ইন্ধন দেওয়া হয়, তা প্রতিফলিত হয়েছে নন্দলাল বসুর তৈরি নামফলকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। আসলে এখানে অশান্তির সূত্রপাতই হয়েছিল ভেঙে যাওয়া ছাত্র সংসদের সাধারণ সভা বা জিবি মিটিং ঘিরে। এবিভিপি প্রশ্ন তুলেছিল, যেখানে ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব নেই, সেখানে কেন জিবি মিটিং হচ্ছে? এই নিয়েই সংঘর্ষ থেকে এরপর থেকে নানা স্তরে দ্রুত ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন করানোর দাবি ওঠে। লক্ষ্য একটাই, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্র সংসদ দখল।সেই সূত্রেই এদিন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র ভোট নিয়ে মুখ খুললেন। তাঁর কথায়, ‘‘শিগগিরই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। সব জায়গায় জিতবে এবিভিপি। কলেজে কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির। আর কারও কোনও সুযোগই নেই।''
ছাত্র রাজনীতিই যে আসল ভিত তৈরি করে, পরবর্তীতে তার হাত ধরে উঠে আসেন রাজনৈতিক নেতারা, তা একাধিকবার সবিস্তারে বলেছেন একসময়ের বাম ছাত্র ও যুবনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তিনি ভালোই বোঝেন।গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকাকালীন যে ছাত্র ভোট হয়নি, তা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে পড়ুয়া মহলে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সেই 'বঞ্চনা' কেটে যাবে বলে আশাবাদী ছাত্রছাত্রীরা। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র তেমন ভিত নেই। এবার ছাত্র ভোট হলে এবিভিপি-র কাছে সেই সুযোগ অনেকটা প্রশস্ত হবে বলে মত পড়ুয়াদের একাংশের।
