আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট 'হর ঘর তেরঙ্গা' কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই মর্মে রাজ্যের সব দপ্তর, কলকাতা পুরসভা ও সব জেলার জেলাশাসকদের কাছে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা। এজন্য সরকারি দপ্তর, পঞ্চায়েত, পুরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন, এনজিও, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি পরিচালনার জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলাকে ১ লক্ষ, মহকুমাকে ৫০ হাজার, প্রতিটি ব্লককে ২০ হাজার, প্রতিটি পুরনিগমকে ১ লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি পুরসভাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি জেলা ও কলকাতা পুরসভাকে কেন্দ্রীয়ভাবে ১.৫ লক্ষ করে জাতীয় পতাকা সরবরাহ করা হবে। তবে কালিম্পং জেলাকে ২০ হাজার জাতীয় পতাকা দেওয়া হবে, যা সরকারি ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া কর্মসূচি পরিচালনার জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলাকে ১ লক্ষ, মহকুমাকে ৫০ হাজার, প্রতিটি ব্লককে ২০ হাজার, প্রতিটি পুরনিগমকে ১ লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি পুরসভাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, জেলা, মহকুমা, ব্লক ও পুরসভা স্তরে তেরঙ্গা র্যালি ও প্রভাতফেরির আয়োজন করতে বলা হয়েছে। ছাত্রছাত্রী, এনএসএস, এনসিসি, নেহরু যুব কেন্দ্র, স্কাউট-গাইড ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নিয়ে সাইকেল ও ই-বাইক র্যালি, স্কুল-কলেজে তেরঙ্গা-ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উক্তি ও 'বন্দে মাতরম' বিষয়ক দেওয়াল সজ্জা। সরকারি দফতর, ঐতিহ্যবাহী ভবন, বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট, বাজার-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিরঙ্গা আলোকসজ্জা, জনবহুল এলাকায় তেরঙ্গা-থিমের রঙোলি তৈরির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এই কর্মসূচি উপলক্ষে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে 'বন্দে মাতরম' ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনে উৎসাহ দেওয়া হবে। জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও গুরুত্ব নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন, দেশপ্রেমমূলক আলোচনা, সেমিনার, প্রবন্ধ, কুইজ, চিত্রাঙ্কন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যানার, পোস্টার, ডিজিটাল প্রচার এবং 'হর ঘর তেরঙ্গা' পোর্টালে তেরঙ্গার সঙ্গে সেলফি আপলোডের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে বলা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, ছবি, তেরঙ্গার সঙ্গে সেলফি এবং ভিডিও-সহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
