মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন কালীগঞ্জের মৃত ছাত্রী তামান্নার মা। চব্বিশে বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছিল কালীগঞ্জের ছোট্ট তামান্নার। মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও বিচারের দাবিতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। মেয়ের বিচারের দাবি নিয়েই আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। পাশাপাশি আনিসের বাবার সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও একমাত্র সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদেরকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ''গত সরকারের সময় আমার মেয়ের খুনের তদন্ত এগোয়নি। এই ঘটনায় যারা যুক্ত তাঁদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছিলাম। বিচারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমাকে আশ্বস্ত করেছেন উনি ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি দেবেন।'' শুধু তাই নয়, সবরকমভাবে পাশে থাকার বার্তাও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে দিয়েছেন বলেও জানান কালীগঞ্জের মৃত ছাত্রী তামান্নার মা। এদিকে এই ঘটনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গত ১৫ টা বছরে দুষ্কৃতীদের হাতে তামান্না, আনিসরা খুন হয়েছেন। বহু কর্মীকে খুন হতে হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কিংবা তৎকালীন সরকার কিছুই করেনি। কারোর কোনও শাস্তি হয়নি। আর তাই সমস্ত ঘটনায় দোষীদের শাস্তি এবং বিচারের দাবি নিয়েই এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখা করেছি। প্রত্যেক ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন বলে দাবি বাম নেত্রীর।
এরপরেই তমান্নার মা'কে নিয়ে ভবানীভবনে যান সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ও সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন আনিস খানের বাবাও। এদিকে এদিনই তামান্না হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নদিয়া জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) অফিস অভিযান করে বামপন্থী ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনগুলি। যা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন দুপুরের পর তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আলিফা আহমেদের জয় কার্যত নিশ্চিত হতেই কালীগঞ্জের মোলান্দি এলাকায় বিজয় মিছিল বের হয়। অভিযোগ, সেই মিছিল চলাকালীন বিরোধী সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি হয়। সেই বোমার আঘাতেই নিজের মায়ের সামনেই প্রাণ হারায় ছোট্ট তামান্না। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর তামান্নার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পুলিশ তদন্তে মূল অভিযুক্ত-সহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে অভিযোগপত্রে নাম থাকা একাধিক অভিযুক্ত এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিনই রাজ্যপালের ভাষণের ওপর জবাব দিতে গিয়ে তামান্নার বিষয়টি উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তামান্নার পরিবারও বিচার পাবে। রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি ও ধূপগুড়ির মতো ঘটনায় জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরপরেই বিধানসভায় তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং আনিসের বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
