ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট। কোনওভাবেই ভারত সরকারের এই নীতি থেকে সরবে না বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাফ বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলছেন, "এর মধ্যেই ওপারে পাঠানো শুরু করেছি। কোনও জেল, সাজা নয়। সোজা ডিপোর্ট করে দেব।" তবে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, "যাঁরা প্রকৃত ভারতবাসী, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। সে যে ধর্মের হোক, যে সম্প্রদায়ের হোক।"
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, "ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করা হয়েছে। ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ অপেক্ষারত। যাদের নাম সিএএ-র অধীনে নেই সবাইকে তাড়াব।" শুভেন্দুর সাফ কথা, "যারা প্রকৃত ভারতীয় তাঁদের কোনও চিন্তা নেই। যারা সত্যিকারের দেশভক্ত, সে যে ধর্মেরই হোন-নিশ্চিন্তে থাকুন। কিন্তু বাংলার টাকায়, ভারতীয়দের টাকায় শুধু ভারতীয়রা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবে, শুধু ভারতীয়রা বৃদ্ধ ভাতা পাবে, বেকার ভাতা পাবে, ছেলেমেয়েদের চাকরি হবে, স্কুলগুলির সংস্কার হবে। কোনও অনুপ্রবেশকারীকে সেই টাকা নিতে দেব না।"
মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি ভাষণের সময় আগের তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, "এতদিন ধরে বিএসএফকে জমি দেননি কেন? এই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফকে কী গালমন্দই না করেছেন। আগে জমিটা দিয়েই নাহয় গালিগালাজ করতেন।" শুভেন্দুর সাফ কথা, "ভারত সরকারের আইন কার্যকর করেছি। কোনও জেল নয়। সোজা ডিপোর্ট।"
এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ক্ষমতায় আসার পর এই সামান্য সময়ে বিএসএফের হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দিয়েছি। শীঘ্রই বেড়া দিয়ে দেব।" রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে শুভেন্দু বলে দেন, "যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান। হাকিমপুর দিয়ে অনেকেই পালিয়েছে আমার কথা শোনার পর। বাকি যদি কেউ থাকে তাড়াতাড়ি চলে যান। রাষ্ট্রের সুরক্ষা-রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আর বাংলাকে সুরক্ষিত ও মজবুত করার জন্য এই সরকারের নীতি একদম পরিষ্কার। এ বিষয়ে আঙুল তুললেই যস্মিন দেশে যদাচার।" অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট, অনুপ্রবেশ প্রশ্নে নতু সরকার পুরোপুরি আয়রন হ্যান্ড নীতিই নেবে। এবং আগামী দিনে সীমান্তে পুশব্যাকের সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে।
