অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ে কারও বাদ গিয়েছে হাত, কারও বাদ গিয়েছে পা। একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোরজুলুম করে নানা মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্র ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে আনা হয়েছিল। আবার শিবিরের আশপাশের এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে বহু মূল্যের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের নামে কী চলেছে সেই দুর্নীতি নিয়ে আজ, শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতির ফাইল প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী গত বুধবারই জানিয়েছিলেন, যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা যত বড় নেতাই তিনি হোন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।
পাশাপাশি আমফান দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগের তদন্তে সিএজি যে রিপোর্ট দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সেই ক্যাগ-এর রিপোর্টও (CAG report) আজ বিধানসভায় পেশ করবেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতিকে সামনে আনতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিএজির রিপোর্টগুলি (মোট ২৮টি) পেশ হবে পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনা ও সুপারিশগুলি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গত বুধবারই জানিয়েছিলেন, যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা যত বড় নেতাই তিনি হোন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।
শুক্রবার বিধানসভায় ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন। সেবাশ্রয় শিবিরের নামে এলাকার খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখা হয়েছে। সেই অস্থায়ী পরিকাঠামো তুলে মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ২৪ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিল থেকে খরচ করতে হবে। অভিযোগ, "ওই প্যান্ডেল রেখে দেওয়ার অর্থ ছিল, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে গিয়ে পালিশ করা।"
উল্লেখ্য, সেবাশ্রয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে বিপুল অর্থ তছরুপ, বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোর করে চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিনতাই এবং চরম চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীদের পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল চলছে। এই সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে শুক্রবার বিধানসভায় ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন। সেবাশ্রয় শিবিরের নামে এলাকার খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখা হয়েছে। সেই অস্থায়ী পরিকাঠামো তুলে মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ২৪ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিল থেকে খরচ করতে হবে। অভিযোগ, "ওই প্যান্ডেল রেখে দেওয়ার অর্থ ছিল, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে গিয়ে পালিশ করা। আমি এই বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনছি। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।"
বিজেপি বিধায়ক বলেন, "কোথাও মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার নামে নানা অপকর্ম হয়েছে। কোনও রোগীর হাত বাদ গিয়েছে, কোনও রোগীর পা বাদ গিয়েছে।" এর জবাব দেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিষয়ে (সেবাশ্রয়) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার অধিবেশনে এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম প্রতারণা ও দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। পায়ে সামান্য ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষমেশ সংক্রমণ ছড়িয়ে সম্পূর্ণ পা হারাতে হয়েছে মালতী বিশ্বাস নামে এক মহিলাকে। আবার এক শিশুর সঠিক চিকিৎসার আশায় মা-বাবা তাকে শিবিরে নিয়ে এলেও ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে হাত খোয়াতে হয় বাচ্চাটিকে। উভয়ক্ষেত্রেই থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে এই ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালিত হয়েছিল। বেআইনি ভাবে চিকিৎসার সরঞ্জাম, ওষুধ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এদিকে, আজ ক্যাগ রিপোর্ট পেশের পর তার উপর আলোচনা চলবে। শেষে সুপারিশ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আমফানের সময় দু'দফায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। আমফানে বড় দুর্নীতি হয়েছিল, কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থের মামলা হয়। তার প্রেক্ষিতে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি, বিধানসভায় পেশও করা হয়নি। সেই রিপোর্ট পেশ হতে চলেছে।
