'তারাতলা বিভীষিকা'য় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল নির্মীয়মাণ বিল্ডিং। ১৬ শ্রমিকের মৃত্যুমিছিল। মর্মান্তিক ঘটনার দু'মাস পর এবার বেআইনি বহুতলের নির্মাণে রাশ টানতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘোষণা রাজ্য সরকারের। বৃহস্পতিবার CREDAI প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অডিটের পর বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলির মধ্যে ১৯৩ টিতে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, ২৭টি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড়সড় বেনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। আর এবার এই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রোমোটারদের আনা হবে শাস্তির আওতায়। মিডিয়ার সামনে লাইভ এনে তাঁদের জনসমক্ষে জেরা করার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি যেসমব সরকারি আধিকারিক বেআইনি ইমারতে অনুমতি দিয়েছিলেন, রেয়াত পাবেন না তাঁরাও। তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হবে মিডিয়ার সামনে।
তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে গজিয়ে উঠেছে বহু বেআইনি নির্মাণ। নেপথ্যে যারা ছিলেন, কাউকে রেয়াত নয়। বৃহস্পতিবার বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা জানান, "মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংবাদমাধ্যমকেও ডাকা হবে। সেখানেই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের হাজির করানো হবে। লাইভে তাঁদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। শুধু প্রোমোটররাই নন, যে সব সরকারি আধিকারিকরা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিল্ডিংয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদেরকেও 'লাইভে' জবাব দিতে হবে।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "আমরা চাই না আসল বিল্ডারদের কোনও ক্ষতি হোক। কিন্তু বেআইনি বিল্ডিং তৈরি করে তারাতলার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে দেব না।" তিনি আরও জানান, "কলকাতা, বরাহনগর সহ একাধিক এলাকায় ৪ তলার অনুমতি নিয়ে ৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়ে গেছে। এমন চিহ্নিত ২৭টি বেআইনি বিল্ডিং অপারেটরদের ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যে সব নিয়মমাফিক নির্মাণের কাজ থমকে ছিল, তার মধ্যে ১৯৩ টি বিল্ডিংকে কাজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে নির্মাণের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সয়েল টেস্ট, স্ট্রাকচারাল অডিট ও প্ল্যান খতিয়ে দেখা হবে। মনিটরিং প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং পিডব্লিউডি সচিব অন্তরা আচার্যের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে।
