ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: দিন দুই আগেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নূর। এবার বঙ্গ বিধানসভার লড়াইয়ে আরও প্রাক্তন তৃণমূল নেতার উপর ভরসা রাখল প্রদেশ কংগ্রেস। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সিনিয়র অবজার্ভার বা পর্যবেক্ষক হিসাবে ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায়বর্মণকে নিয়োগ করল এআইসিসি। একই সঙ্গে রাজ্যের পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে শাকিল আহমেদ খান ও প্রকাশ যোশীকে।
সুদীপ রায়বর্মণের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত তিনটি দল বদল হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। ছিলেন বিরোধী দলনেতাও। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর তোপ দেগে দল ছাড়েন সুদীপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে ব্রতী হয়ে যোগ দেন তৃণমূলে। ত্রিপুরায় সেসময় প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠে সুদীপ রায়বর্মনের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। কিন্তু ধীরে ধীরে ত্রিপুরায় তৎকালীন বাম সরকারের প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠে বিজেপি। কাগজেকলমে প্রধান বিরোধী দল হয়েও আন্দোলনের জমি হারায় তৃণমূল। তখন বাকি বিধায়কদের নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান সুদীপ। যদিও বিজেপিতে বেশিদিন টিকতে পারেননি। ২০২৩ সালে কংগ্রেসে ফিরে এসে ফের ত্রিপুরা কংগ্রেসের প্রধান মুখ হিসাবে উঠে আসেন তিনি।
সেই সুদীপকে প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক করল এআইসিসি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলেই কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই নেতার উপর ভরসা করেই বঙ্গ বিধানসভার বৈতরণী পার করতে চাইছে হাত শিবির। তবে একা সুদীপ নন, বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর্যবেক্ষক পদে আরও দুজনকে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রবীণ নেতা শাকিল আহমেদ খান। তিনি আগেও বঙ্গ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক ছিলেন। প্রকাশ যোশীকেও একই সঙ্গে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক গুলাম আহমেদ মীর এমনিতে সার্বিকভাবে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক তাঁর সঙ্গেই কাজ করবেন এই তিনজন।
বঙ্গ কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত বাংলায় একলা চলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু দলের অন্দরে অনেকেই আছেন সিপিএমের সঙ্গে জোটের পক্ষে। মূলত অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও তাঁর অনুগামীরা এই শিবিরে। আবার অনেকে আছে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের পক্ষে। নতুন অবজার্ভাররা দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভঙ্কর সরকাররা জোট নিয়ে অবস্থান বদলান কিনা সেটাই দেখার।
