দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সত্যি সামনে এল। প্রেমের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্বামী। তাই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে সমীর মিস্ত্রিকে খুন করেছে তাঁর স্ত্রী মধুমিতাই। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে মধুমিতা মিস্ত্রি ও তার প্রেমিক চন্দন মণ্ডল।
এপ্রিল মাসের নয় তারিখ রাত এগারোটা নাগাদ নিজের বাড়িতে খেতে বসেছিলেন সমীরবাবু। বাড়ির দরজা খোলাই ছিল। আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে বাড়ির বাইরে থেকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পেশায় ট্যাক্সি চালক হলেও তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমীরবাবু। প্রথমে পুলিশের মনে হয়েছিল কোনও পুরনো বিদ্বেষের জেরেই খুন করা হয়েছে তৃণমূল কর্মীকে।
[ফুলবাগানের নার্সিংহোমে রোগীর মৃত্যু, খুনের অভিযোগ করল পরিবার]
কিন্তু সমীরবাবুর মেয়ে চৈতালি জানায় এমন কোনও শত্রু ছিল না তাঁর বাবার। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে চৈতালি। তার ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার সময় ঘরের ভিতরেই ছিল দু’জনে। গুলির আওয়াজ শুনে বাইরে এসে বাবার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। ঘটনার পর মধুমিতার ব্যবহার দেখেও কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু তার ফোনের কল লিস্ট দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। সেই সূত্রেই খুদিরাম পল্লির বাগুইপাড়া রোডের বাসিন্দা চন্দন মণ্ডলের হদিশ মেলে। জানা যায়, খুনের বেশ কিছুদিন আগে বারুইপুরে এক আইনজীবীর কাছে ডিভোর্সের বিষয়ে কথা বলতেও গিয়েছিল দু’জনে। পুলিশের জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নেয় মধুমিতা। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠেছিলেন সমীরবাবু। সে কারণেই ঠান্ডা মাথায় তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে মধুমিতা-চন্দন। ঘটনার দিন সমীরবাবু যখন রাতে খেতে বসেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মধুমিতাই বাইরের দরজা খোলা রেখেছিল। যাতে সমীরবাবুকে গুলি করতে কোনও অসুবিধা না হয়। মধুমিতা-চন্দন দু’জনকেই লোয়ার ডিভিশন আদালতে তোলা হয়েছে।
[বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় গেলেন মেয়র]
The post সোনারপুরেও মনুয়া কাণ্ডের ছায়া, প্রেমিকের সঙ্গে মিলেই তৃণমূল নেতাকে খুন স্ত্রীর appeared first on Sangbad Pratidin.
