ফের আলোচনার শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার এখানে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠনের জাতীয়তাবাদী সম্মেলন ও বামপন্থীদের মিছিল ঘিরে দিনভর খবরেই ছিল যাদবপুর। সন্ধ্যার পর নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিয়ে শুরু হল নয়া বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে বেদপাঠ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এখানকার বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় প্রস্তাব দেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার নেপথ্যে ঋষি অরবিন্দের অনেক অবদান রয়েছে, তাই তাঁর নামে নামকরণ হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের। তার পালটা দিতে গিয়ে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য তুললেন নাথুরাম গডসের প্রসঙ্গ। তাঁর প্রস্তাব, ঋষি অরবিন্দ নন, সোজা নাথুরাম গডসের নামে যাদবপুরের নাম হোক আর নন্দলাল বসুর প্রতীকটি সরিয়ে সাভারকারের মুচলেকাটি তুলে ধরা হোক। শর্বরী-সৃজনের এহেন প্রস্তাব নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
এদিন সন্ধ্যায় ত্রিগুণা সেন মঞ্চ থেকে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি, ‘‘এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পিছনে ঋষি অরবিন্দ ও তাঁর ভাবধারার অন্যতম ভূমিকা ছিল। তাই তাঁর আদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়েই এই নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।'' একইসঙ্গে ওই মঞ্চ থেকে তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগেও যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষের সময়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শর্বরী।
সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শুনলাম মাননীয়া বিধায়ক যাদবপুরের নাম বদলে ঋষি অরবিন্দের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমাদের বক্তব্য, বিজেপি যে সব নামবদল করছে, তার পিছনে তো তাদের নিজস্ব পছন্দ এবং আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করে। এখন ঋষি অরবিন্দ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, আলিপুর বোমা মামলায় তিনি জেলে ছিলেন। এহেন অরবিন্দ নামে নামকরণ করে কি বিজেপির উদ্দেশ্য সাধিত হবে? মনে হয়, হবে না। তাই আমার প্রস্তাব, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একেবারে নাথুরাম গডসের নামে হোক। নন্দলাল বসুর জ্ঞানশিখা প্রতীকটি বদলে হোক সাভারকারের মুচলেকা দেওয়া প্রতীক। আর উপাচার্য হয়ে যান শর্বরী মুখোপাধ্যায় নিজে।''
তাঁর এই প্রস্তাব শুনে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সিপিএমের তরুণ নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শুনলাম মাননীয়া বিধায়ক যাদবপুরের নাম বদলে ঋষি অরবিন্দের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমাদের বক্তব্য, বিজেপি যে সব নামবদল করছে, তার পিছনে তো তাদের নিজস্ব পছন্দ এবং আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করে। এখন ঋষি অরবিন্দ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, আলিপুর বোমা মামলায় তিনি জেলে ছিলেন। এহেন অরবিন্দ নামে নামকরণ করে কি বিজেপির উদ্দেশ্য সাধিত হবে? মনে হয়, হবে না। তাই আমার প্রস্তাব, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একেবারে নাথুরাম গডসের নামে হোক। নন্দলাল বসুর জ্ঞানশিখা প্রতীকটি বদলে হোক সাভারকারের মুচলেকা দেওয়া প্রতীক। আর উপাচার্য হয়ে যান শর্বরী মুখোপাধ্যায় নিজে।'' বাম বনাম ডান - যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে এবার নতুন তরজা শুরু হল।
