shono
Advertisement
Illegal truck Syndicate

'নো এন্ট্রি' অথচ শহরে ঢুকছে বেআইনি ট্রাক! পুলিশের জালে সিন্ডিকেটের পান্ডা, নেপথ্যে কারা?

এসিবি-র গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই সিন্ডিকেটের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কিছু সরকারি আধিকারিকরাও!
Published By: Arpita MondalPosted: 10:27 PM Sep 03, 2026Updated: 10:27 PM Sep 03, 2026

নো এন্ট্রির সময় বেআইনিভাবে শহরে ঢুকছে ট্রাক। সিন্ডিকেটের হাতে মাত্র আড়াই হাজার টাকা করে দিলেই নো এন্ট্রি থাকা সত্ত্বেও হাওড়া, কলকাতা ও রাজ্যের অন‌্যান‌্য শহরগুলিতে মালবাহী ট্রাক ঢুকে পড়ছে অত‌্যন্ত সহজেই। এই কীর্তির জন‌্য বেড়ে চলেছে পথ দুর্ঘটনাও। সম্প্রতি রাজ‌্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখার সামনে আসে এই কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি। এর তদন্ত শুরু করে বৃহস্পতিবার হাওড়া থেকে দুর্নীতিদমন শাখা তথা এসিবি-র হাতে গ্রেপ্তার হল সিন্ডিকেটের এক মাথা সঞ্জীব। তাকে জেরা করে এসিবি-র গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই সিন্ডিকেটের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কিছু সরকারি আধিকারিকরাও।

Advertisement

মূলত সিন্ডিকেটের হয়ে সঞ্জীব ট্রাক চালকদের একটি বিশেষ কার্ড দিয়ে টাকা নিত। সেই কার্ড দেখালে নো এন্ট্রির সময়ও বেআইনিভাবে ট্রাকগুলিকে ছেড়ে দিত হাওড়া, কলকাতা ও বারুইপুরের কয়েকটি ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। সঞ্জীব-সহ সিন্ডিকেটের মাথাদের হাত ধরে ওই ট্রাফিক গার্ডের পুলিশের কাছে পৌঁছে যেত মাসোহারা। এদিন সেই ‘ঘুঘুর বাসা’ই ভাঙল এসিবি। এসিবির এক কর্তা জানান, ২০১৪ সাল থেকে বারো বছর ধরে দক্ষিণবঙ্গে টানা চলছিল এই বিপুল টাকার দুর্নীতি। এবার ট্রাফিক গার্ডগুলির যে পুলিশ আধিকারিকরা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তঁাদের চিহ্নিতকরণ করা হচ্ছে। তাঁদের তলব করে জেরাও করা হতে পারে।

ন‌্যাশনাল পারমিট রয়েছে, এমন ট্রাকগুলি বাইরে থেকে মালভর্তিকরে ডানকুনিতে এসে পৌঁছত। সিন্ডিকেটের দালালরা চালকদের বলত, লাইন দিতে হবে না। নো এন্ট্রিতেই ট্রাক শহরে ঢুকে যাবে। দালালরা সিন্ডিকেটের সদস‌্যদের সঙ্গে চালকদের মোবাইলে কথা বলিয়ে দিত। চালকদের আড়াই হাজার টাকা দিলেই দিনের যে কোনও সময় শহরে ট্রাক ঢুকে যাবে বলে জানানো হত। ট্রাক পিছু আড়াই হাজার টাকা নগদ, ইউপিআই কোড, ব‌্যাঙ্ক লেনদেনেও পৌঁছে যেত। টাকার বদলে একটি কার্ড দেওয়া হত। তা কর্তব‌্যরত পুলিশকে দেখালেই জরিমানা ছাড়াই ট্রাক মসৃণভাবে পৌঁছে যেত গন্তব্যে।

এসিবির দাবি, এই নেটওয়ার্কে রয়েছে দালালচক্র, যা অপারেটর ও সিন্ডিকেটের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন আধিকারিক ও পুলিশকর্মীর সঙ্গে। সবাই একসঙ্গে চালায় এই ‘সংগঠিত অপরাধ’। এসিবি-র এক আধিকারিকের মতে, ধৃত সঞ্জীব হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এই চক্রে যুক্ত রয়েছে বহু ব‌্যক্তি। সরকারি আধিকারিক-সহ যে ব‌্যক্তিরা যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেককেই শনাক্ত করা হচ্ছে। এর জন‌্য বেশ কয়েকজনের মোবাইলের টাওয়ার ও ব‌্যাঙ্ক অ‌্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারই ভিত্তিতে আইনি ব‌্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement