shono
Advertisement
CPM

স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে 'হেনস্তা', তৃণমূলের মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্কে সিপিএমের মহিলা সংগঠন

মহিলা সমিতির তরফে আক্রান্ত মহুয়া মৈত্র, উপাসনা চৌধুরীদের পাশে দাঁড়িয়ে জারি হয়েছে বিবৃতি।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:56 AM Aug 17, 2026Updated: 09:57 AM Aug 17, 2026

স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে 'গো ব্যাক' স্লোগানের বিরোধিতায় তাঁর পাশে দাঁড়াল সিপিএমের মহিলা সংগঠন। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, রাতে একজন মহিলার সাংসদের উপর এধরনের পরোক্ষ আক্রমণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এই ঘটনার ফলে রাজ্যের সাধারণ মহিলারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে পার্টির মহিলা সংগঠনের নিন্দা বিবৃতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সিপিএমের অন্দরে। একাংশের মত, যে মহিলা সাংসদের উসকানিতে দিনের পর দিন নিজেদের পার্টিকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তার পাশে দাঁড়ানো সেই কর্মীদের মনোবলে আঘাত লাগবে।

Advertisement

রবিবার সিপিএমের মহিলা সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, একজন মহিলা সাংসদ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তখন রাজ্যের সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় এই ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়। মহুয়া মৈত্রর উসকানিতে যে কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির এই বিবৃতি তাঁদের মধ্যে বা নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

১৪ আগস্ট মধ্যরাতে মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ঢুকতে গেলে বেশ কয়েকজন জড়ো হয়ে তাঁর উদ্দেশে 'গো ব্যাক' স্লোগান দেয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন কালীঘাটপন্থী এই মহিলা সাংসদ। বিষয়টি নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রবিবার সিপিএমের মহিলা সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, একজন মহিলা সাংসদ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তখন রাজ্যের সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় এই ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়।

মহিলা সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহুয়া মৈত্র বা তৃণমূলের ছাত্রনেত্রী উপাসনা চৌধুরীদের বিরুদ্ধে সংগঠনের অনেক অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু যে দুষ্কৃতীরা মধ্যরাতে একজন মহিলা সাংসদকে হেনস্তা করতে পারে, তারা সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করতে পারে, প্রশাসনের ভেবে দেখা উচিত। আর এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নীরব থাকায় মহিলাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও যে মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। কারণ বিগত সরকারের সময় বিধানসভার অভ্যন্তরে দেবলীনা হেমব্রম বা জাহানারা বিবিদের উপর আক্রমণ হলেও তৎকালীন সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে আগেও অনেক বিতর্ক হয়েছে। দেশের তথ্য বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যে কারণে লোকসভা থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। আবার বিভিন্ন সময়ে সাংসদ থাকাকালীন সিপিএমের বিরুদ্ধে দলের কর্মীদের উসকানি দিয়েছেন। যার ফলে পার্টির বহু কর্মীকে আক্রান্ত হতে হয়েছে। মহুয়া মৈত্রর উসকানিতে যে কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির এই বিবৃতি তাঁদের মধ্যে বা নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পার্টির সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement