আনন্দপুরে মোমো তৈরির কারখানায় ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। তবে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কাই করা হচ্ছে। ওই এলাকাজুড়ে এখন কেবল স্বজনহারাদের কান্না, আর্তনাদ। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়রা রাতভর ওই এলাকায় অপেক্ষা করেছেন প্রিয়জনদের একটা খবর পাওয়ায় আশায়।
রাতেও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছিল। রাতেও সেই আগুন নেভানোর কাজ করেছেন দমকল কর্মীরা। আজ, মঙ্গলবার সকালেও ধ্বংসস্তূপের ভিতরে কোথাও কোথাও ধিকিধিকি আগুন জ্বলার খবর এসেছে। বড় আগুন লাগলে বহু সময় এমন পকেট ফায়ার থাকে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এমনই জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা। গতকাল, সোমবার একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে ওই মোমো কারখানা থেকে। আগুনের গ্রাসে লোহার বিম, কংক্রিট দিয়ে ওই কারখানা এই মুহূর্তে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যেসব মৃতদেহগুলি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি আগুনে কার্যত ঝলসে গিয়েছে। কোনওভাবেই সেগুলিকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মৃতদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট হবে বলে খবর।
ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে রয়েছে। এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই কংক্রিট ভাঙার কাজ শুরু হবে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। এদিন সকাল থেকে কুলিং প্রসেস শুরু হয়েছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে ফরেনসিক পরীক্ষা হবে। সেই কথা জানা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ১২। তবে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কাও অমূলক নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে ছিল কিনা? সব কিছুর তদন্ত হবে। এই কথা প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ রোডে রয়েছে মোমো তৈরির কারখানা। রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ ভয়াবহ আগুন গ্রাস করে ওই কারখানায়। তখন ভিতরে মোমো তৈরির কাজ করছিলেন কর্মীরা। পাশেই চলছিল ডেকরেটর্সের কাজ। প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ছিলেন। আগুন লাগতেই প্রথমে কয়েকজন বের হয়ে আসতে পারলেও বাকিরা আটকে পড়েন কারখানায়।
২০ জনের মতো কর্মী সেখানে আটকে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময়ের পর আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেই একের পর এক দেহ উদ্ধার হতে থাকে। আগুনের খবর শুনে রাত থেকে ঘটনাস্থলে হাজির হন নিখোঁজদের পরিবার। একের পর এক দেহ বেরিয়ে আসতে দেখে তাঁদের বুক ভাঙা কান্না আর চেপে রাখতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ, বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। নিখোঁজ শ্রমিকদের সঙ্গে এদিন কথা বলেন অরূপ বিশ্বাস।
