সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবি অক্ষুণ্ণ রেখে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাঁর সহপাঠীদের একাংশ গড়ে তুলেছিলেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট! সেখানেই এবার বড়সড় ফাটল। সংগঠনের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। সিনিয়র রেসিডেন্সিয়াল পোস্ট নেবেন না বলেও সিদ্ধান্ত তাঁর। সংগঠন থেকে তাঁর হঠাৎ সরে যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই অবস্থায় অনিকেত মাহাতোর পাশে দাঁড়িয়ে ফ্রন্টের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'ফ্রন্ট থেকে অনিকেতের সরে আসা একেবারেই নিজস্ব। অন্য কিছু খুঁজতে যাবেন না।' এমনকী চিকিৎসকদের আন্দোলন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে বুঝেই অনিকেত সরে এসেছেন বলেও দাবি নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Narayan Banerjee)।
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর (RG Kar) হাসপাতালের সেমিনার রুমে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করা হয় মহিলা চিকিৎসককে। তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন সহপাঠীরা। আর জি করের জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়ারা 'অভয়া ফান্ড' তৈরি করেন। কিছুদিন পর অভিযোগ ওঠে, সেই তহবিলের নামে অর্থ নয়ছয় হচ্ছে! বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে সংগঠনের সভাপতি পদ ছাড়ার কথা জানান অনিকেত মাহাতো। পদত্যাগপত্রে মতানৈক্যের কথা গোপন করেননি। সাফ জানান, যেভাবে ফ্রন্টের কাজ চলছে, তা অগণতান্ত্রিক এবং অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এরপরেই এক ভিডিওবার্তায় এদিন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম থেকে অনিকেতের সরে আসা নিজস্ব সিদ্ধান্ত। নিজে যা করেছেন, তা ভালো ভেবে করেছেন। এর মধ্যে কেউ অন্য কিছু খুঁজতে যাবেন না।'' তাঁর প্রশ্ন, ''যারা এটা করছেন, তাঁরা একটা সময় আমার সঙ্গে কুণাল ঘোষের আলোচনাকেও অসম্ভবভাবে ধিকৃত করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ কতটুকু?''
শুধু তাই নয়, অভয়ার বিচার একমাত্র বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ''অভয়ার বিচার যদি চান, তাহলে তা হবে একমাত্র বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে। ওই অবস্থায় অনিকেত যেটা ভালো মনে করেছেন তাই করেছেন। অন্যরা যদি ভালো না মনে করেন তাহলে চুপ করে থাকুন, অনিকেতকে দোষী বানাবেন না। প্রত্যেকের মন এবং বিবেক আলাদা।'' এই বিষয়ে ফ্রন্টের একাংশকে বিঁধে চিকিৎসকের দাবি, ''অনিকেত যথেষ্ট ভালো ছেলে। সে যদি বোঝে ডাক্তারদের আন্দোলন অন্যদিকে চলে যাচ্ছে, শুধুমাত্র নিজেদের ভালোর জন্য তা তে সরে আসতেই পারেন।'' এমনকী এই আন্দোলন কিছু 'লোককেন্দ্রিক' হয়ে উঠছে বলেও কটাক্ষ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এই প্রসঙ্গে ধর্মতলায় চলা অনশনের প্রসঙ্গ তোলেন চিকিৎসক। বলেন, ''আমার যেমন মনে হয়েছিল ওই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অনশনকারীদের আলোচনায় বসা দরকার। কিন্তু বেশ কিছু লোক, যাঁদের ব্রেনে বোধহয় অক্সিজেন কম যায়, ব্রেন অতটা খাটায় না, তাঁরা অনেকভাবে ট্রোল করেছিলেন। কিন্তু পরে বুঝেছিলেন আমি যেটা বলেছিলাম সেটাই ঠিক।''
