রাজারহাটের অভিজাত একটি আবাসনে পানীয় জল দূষণ! আর দূষিত সেই জল পানে আবাসনের বাসিন্দা শিশু, বয়স্ক, মহিলা সহ অনেকেই বমি, জ্বর, গায়ে ব্যাথা-সহ নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন। এই মুহুর্তে অসুস্থরা অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র গাফিলতির অভিযোগে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিধাননগর কমিশনারেটের রাজারহাট থানার পুলিশ। অন্যদিকে, পানীয় জল সংক্রমণের খবর চাউর হতেই রাজারহাটের আবাসনের বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবাসনে বাসিন্দানের সঙ্গে কথা বলেন রাজারহাট–নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়াও।
রাজারহাট চৌমাথার অদূরে ২১১ রোড সংলগ্ন অভিজাত ওই আবাসনে প্রায় ১৩০০ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে বসবাস শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বহু মানুষের বসতি। আবাসনের বাসিন্দা সৌগত পাল, অমিত কুমার দাস, অভিজিত নাথ, স্বপন কুমার মিত্রদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবাসনের জলাধার এবং জল পরিশোধন ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে বৃষ্টির নোংরা জল জলাধারে ঢুকে সরবরাহের জল দূষিত হয়ে পড়েছে। যার জেরেই শিশু, বয়স্ক-সহ অনেকেই পেটের রোগে ভুগছেন। বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পাম্পের ভূ-গর্ভস্থ জলই রিজার্ভারে জমা হয়। কিন্তু রিজার্ভার, জলের ট্যাঙ্ক, পাইপ লাইনের রক্ষানাবেক্ষণ হয় না। এরজন্য কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করছেন আবাসিকরা।
এপ্রসঙ্গে আবাসন সংস্থার ফ্যাসিলিটি হেড তন্ময় চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হঠাৎ পানীয় জলে দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে তড়িঘড়ি পরিশোধন প্রক্রিয়া বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করারও চেষ্টা করা হয়। জলাধার খালি করে পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত জলের ট্যাঙ্ক জোগান দিয়ে সরবারাহ বজায় রাখা হয়েছে। তবে সরবারহ ব্যবস্থার গাফিলতির কারণে পানীয় জল দূষণ কী না তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে রাজারহাটের বিডিও সুদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘পানীয় জল দূষণের কারণ জানতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই)–কে নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। সাময়িকভাবে জল সরবরাহ বজায় রাখতে আমরা অস্থায়ী ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি মেডিকেল টিমও পাঠিয়ে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিউটাউনের সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসনের ই–ব্লকের পানীয় জলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রণে বহু আবাসিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তীব্র বেগ পেতে হয়েছিল প্রশাসনকে। সেই ঘটনার আতঙ্ক উস্কে দিয়ে গেল রাজারহাটের আবাসনের বাসিন্দাদের।
