কয়লা পাচার তদন্তে ফের সক্রিয় ইডি। বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লা পাচার মামলায় ইডির নজরে শহরের প্রায় ১২ জন ব্যবসায়ী। কৃষ্ণ কয়াল, রীতেশ সিং, লোকেশ সিং, যুধিষ্ঠি ঘোষ, নরেন্দ্র খারকা নামে ব্যবসায়ীদের তলব করেছেন ইডির তদন্তকারীরা। আগামী সপ্তাহে কলকাতায় ইডির দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় একাধিকবার তলব করা হয়েছিল প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। কিন্তু একবারও ইডি দপ্তরে হাজিরা দেননি তিনি। রাজ্যে সরকারি পালাবদল হতেই ফের কয়লা পাচার মামলার তলব করা হল প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। কলকাতায় দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আদালতে রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছিল ইডির তরফে। সেখানে তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, পুলিশ-মাফিয়া যোগসাজশেই রাজ্যজুড়ে রমরমিয়ে চলত কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট। কয়লা পাচারে প্রোটাকশন দিতেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঘুষ নিজের পকেটে ঢোকাতেন বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি। আদালতে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ট্রাকজ্যাকশন আইডি সহ একাধিক তথ্য উল্লেখ করে ইডি জানিয়েছিল, বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢুকেছে মনরোঞ্জন মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। রিপোর্টে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছিল, বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন একাধিক হাতের মাধ্যমে ঘুষের টাকা পৌঁছে যেত মনোরঞ্জনের কাছে। এমন ভুরি ভুরি অভিযোগের ভিত্তিতে বারবার ইডির স্ক্যানারে উঠে আসেন মনোরঞ্জন মণ্ডল।
বারবার হাজিরা এড়িয়ে যেতেই চলতি বছর মার্চে মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন ইডি। বাড়িতে কারও দেখা না পেয়ে দরজায় নোটিসও সাঁটিয়ে ফিরতে হয়েছিল তদন্তকারীদের। প্রসঙ্গত, দুর্নীতিকে কেন্দ্র করেই ২০২৪ সালে মনোরঞ্জল মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার কয়লা পাচার কাণ্ডে ফের ইডির স্ক্যানারে সেই পুলিশ আধিকারিক। উল্লেখ্য, কলকাতার ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর প্রতারণা মামলার গত সপ্তাহেই ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকাতার ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। জমি প্রতারণা কাণ্ডে লক্ষ লক্ষা টাকা হাতানোর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে জালে তোলে ইডি। সপ্তাহ ঘুরতেই কয়লা পাচার মামলায় ইডির নজরে আরও এক পুলিশ আধিকারিক।
