ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের বাংলায় সরকারের পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী দশার পর থেকে তৃণমূলের অন্দরেও তোলপাড়। বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছে একাধিক নেতার গলায়। এই আবহে বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
এদিন সকালে সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, "আজ ২৩ মে, বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। কচ্ছপদের ভালো রাখুন। ওরা দীর্ঘদিন বাঁচে, অনেক বয়স পর্যন্ত। তারা যতদিন বাঁচবে, সিনিয়রিটিকে সম্মান দিয়ে চলুন। তাদের দেখে শিখুন। খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভেতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরোন। আগে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিন কোন দিকে হাঁটবেন। তারপর সুবিধেমত চলুন।" তিনি আরও লেখেন, "বাঘ, সিংহদের বয়স কম। ওরা অতটা জানে না। যা শেখার কচ্ছপদের মত সিনিয়র, অভিজ্ঞদের থেকে শিখুন। দিকে দিকে কচ্ছপ দিবস পালন করুন। কচ্ছপদের সংরক্ষিত রাখুন।"
কুণাল ঘোষের এই পোস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবে নানামহলে জল্পনা দানা বেঁধেছে। নিজের পোস্টের মাধ্যমে দলের একাংশকেই কি বার্তা দিলেন কুণাল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রায় সর্বত্র। কারণ, সদ্যই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তারপর থেকে ঘাসফুল শিবিরের বহু নেতা-কর্মী দাবি করেছেন, তাঁরা ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার। তবে তা সত্ত্বেও 'বিপদের দিনে' পাশে দাঁড়াননি শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ। বরং ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই যেন 'ভ্যানিশ' তাঁরা। মাঝেমধ্যে ঠান্ডা ঘরে বসে বৈঠক করছেন। আর বৈঠক শেষে বিরোধীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় 'গরম গরম' বুলি আওড়াচ্ছেন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলীয় বৈঠকেও কুণাল ঘোষ বলেছেন, এভাবে চলবে না। মাঠে ময়দানে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা লড়াই করার অক্সিজেন পাবে। তাতে সংগঠন হবে ফের চাঙ্গা। দলের বর্ষীয়ান নেতার পরামর্শের পরেও পথে দেখা যায়নি তৃণমূলের রাঘব বোয়ালদের। তবে কি একদা শাসক শিবিরের সেই নেতা-কর্মীদেরই খোলস থেকে বেরিয়ে বর্ষীয়ান নেতাদের পরামর্শে কাজ করার বার্তা দিলেন কুণাল, স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন।
