shono
Advertisement
21 July Shahid Diwas

'রাজনীতির অংশ হব না', ২১ জুলাই তৃণমূলের কোনও মঞ্চেই নয়! সিদ্ধান্তে অনড় শহিদ বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার

আরও একটা ২১ জুলাই। স্মৃতি এখনও দগদগে বরানগরের নরসিংহ প্রসাদ রোডের রায় পরিবারের। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেই ঘটনায় শহিদ হয়েছিলেন বরানগরের বিশ্বনাথ রায়ও।
Published By: Suhrid DasPosted: 08:25 PM Jul 20, 2026Updated: 08:25 PM Jul 20, 2026

আরও একটা ২১ জুলাই। স্মৃতি এখনও দগদগে বরানগরের নরসিংহ প্রসাদ রোডের রায় পরিবারের। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেই ঘটনায় শহিদ হয়েছিলেন বরানগরের বিশ্বনাথ রায়ও। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশের মঞ্চে দিয়েছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু এবার নয়। "রাজনীতির অংশ হব না", এদিন এই বার্তাই দিল বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপধ্যায়ের 'আসল' তৃণমূলে ক্রমশ ভিড় বাড়ছে নেতাদের। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মমতা। ২১ জুলাই শহিদ দিবস কালীঘাট তৃণমূল ও আসল তৃণমূল দুই শিবিরই করতে চলেছে। দুই শিবিরই আলাদা কর্মসূচির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সেই আবহেই ১৩ শহিদের অন্যতম বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কোনও পক্ষের মঞ্চেই তাঁরা যাবেন না। বরানগরের নরসিংহ প্রসাদ রোডের এই পরিবার ২০২৪ সাল থেকেই শহিদ দিবস বয়কট করে আসছে। 

শহিদের ছেলে রাজীব রায়ের কথায়, "আগে একজন ২১ জুলাই নিয়ে রাজনীতি করেছেন, এখন আরেকজন করবেন। সেই রাজনীতির অংশ হব না।"

শহিদের ছেলে রাজীব রায়ের কথায়, "আগে একজন ২১ জুলাই নিয়ে রাজনীতি করেছেন, এখন আরেকজন করবেন। সেই রাজনীতির অংশ হব না।" তাঁর আরও অভিযোগ, "যে দিনটি শহিদ স্মরণের হওয়ার কথা, তা এখন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২১ জুলাই শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে বিনোদনের মঞ্চে নেমে এসেছে। শহিদরা আর গুরুত্ব পান না।" তাঁর দাবি, ১৩টি শহিদ পরিবারের মধ্যে তাঁরাই একমাত্র, যারা এখন আর কোনও দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন না। তাই কালীঘাট তৃণমূল হোক বা ঋতব্রতর তৃণমূল— কোনও পক্ষের ডাকেই সাড়া দেবেন না তাঁরা।

রাজীবের অভিযোগ, শুধু শহিদদের মর্যাদাই খর্ব হয়নি, দীর্ঘদিনেও মেলেনি বিচার। যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁদের আপত্তি ছিল, একসময় তাঁদেরই শহিদ পরিবারের পাশে বসানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। এবারও ২১ জুলাই পরিবারের উদ্যোগেই তর্পণ হবে। তাঁর কথায়, "রক্ত আমাদের বাড়িতে গিয়েছে, বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নয়। তাই তর্পণ আমরা নিজেরাই করব। আমরা তর্পণ করি, ওখানে বিনোদন হয়।" প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই হাজরা মোড়ে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতিবছর শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল। প্রতি বছর শহিদ দিবস প্রদেশ কংগ্রেস বিধান ভবনে পালন করে। এবার কংগ্রেসও শহিদ মিনারে এইদিন পালন করবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement