বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ব্লেড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক মহিলা স্বাস্থ্য কর্মী। সূত্রের খবর, ওই মহিলা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (Calcutta Medical College) হাসপাতালে এসএসবি বিল্ডিংয়ে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্লিডিংয়ের উল্টো দিকে স্টাফ কোয়ার্টারে দরজা বন্ধ করে তিনি কয়েকটি ব্লেড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। ঘরের বাইরে থেকে অন্য কর্মীরা তার নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। শেষমেশ ধাক্কা দিয়ে দরজা ভাঙেন তারা। দ্রুত তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিপিআর রুমে তাঁর চিকিৎসা চলছে। কেন তিনি এমন ঘটনা ঘটালেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর জানানো হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ ফাড়িতে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় খবর পাওয়া মাত্র জানিয়েছেন, "খবরটি শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সব রকম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।" অভিযোগ, হাসপাতালেরই দুজন কর্মচারী তাঁকে বেশ কয়েকদিন ধরে হেনস্তা করছিল। সেই কারণেই আত্মহত্যার চেষ্টা কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউ-র নার্সের দেহ উদ্ধার হয় বিভাগেরই শৌচালয় থেকে। রাত ৮টা নাগাদ ডিউটিতে যোগ দেন নার্স। ৯টা নাগাদ রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। তারপর বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলেও তিনি আসেননি। এক জুনিয়র চিকিৎসক নার্সের খোঁজ করেন। না পেয়ে শৌচালয়ের দিকে যান তাঁরা। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়া না মেলায়, গ্রুপ ডি স্টাফদের ডেকে শৌচালয়ের গেট ভাঙা হয়। অবচেতন অবস্থায় নার্সকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি মেনে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে ওই নার্সের। পাশাপাশি এনআরএস হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যদপ্তর একটি অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করেছে এই ঘটনায়।
