অর্ণব আইচ: সাইবার জালিয়াতির জন্য চিনে তৈরি হয়েছিল ‘টেলিগ্রাম’-এর গ্রুপ। ওই গ্রুপের মাধ্যমেই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টাকা লগ্নির টোপ দিত সাইবার জালিয়াতরা। লালবাজারের গোয়েন্দাদের মতে, কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গার বহু বাসিন্দা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ওই জালিয়াতদের ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে। দিল্লি থেকে সাইবার জালিয়াতির অভিযোগে ধৃত কলিম আহমেদকে কলকাতায় নিয়ে আসার পর বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। ওই চক্রের মাথাদের সন্ধানে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির এই জালিয়াতির তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দারা এই চক্রের সঙ্গে চিনের সরাসরি যোগ খুঁজছেন গোয়েন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে লালবাজারের সাইবার থানার গোয়েন্দারা জেনেছেন, চিনের একটি নম্বর থেকেই টেলিগ্রামে তৈরি করা হয় গ্রুপ। যদিও চিনের সিমকার্ড ব্যবহার করে ওই গ্রুপটি এই দেশের কোনও শহর থেকে জালিয়াতি করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েই তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা। এই বছরের প্রথমদিকেই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জালিয়াতরা।
[আরও পড়ুন: উত্তরে ভারী বৃষ্টি, ভিজবে দক্ষিণও, বর্ষার প্রথম ইনিংসে নিম্নমুখী তাপমাত্রা]
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লগ্নি করলে প্রচুর টাকা সুদ সহ ফেরত পাওয়া যাবে বলে টোপ দেওয়া হয়। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হলে তাঁকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। চিনের জালিয়াতরা ওই গ্রুপ তৈরি করেছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। সেখানেও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লগ্নি নিয়ে ফের টোপ দেওয়া হয় তাঁকে। তিনি ৬৯ লক্ষ টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু কোনও টাকা ফেরত পাননি।
সেই তদন্তে নেমেই গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের বাসিন্দা কলিমের সন্ধান পায়। সম্প্রতি দিল্লির শাহিনবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করার পর বুধবার তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাকে ১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ইউপিআই কোডে পাঠানো হয়। সেই টাকা যায় কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বাকি টাকা চারটি ক্রিপটো ওয়ালেটের মাধ্যমে পাচার করা হয়। ওই ওয়ালেটগুলির মালিকের মধ্যে রয়েছে চিনের কয়েকজন বাসিন্দাও। ফলে এর পিছনে যে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত, সেই সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
