ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু দলের নেতাদের কাউকেই কর্মীদের পাশে দেখা যাচ্ছে না। একদল রাতারাতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। যারা এখনও সঙ্গে রয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই ঘরে। কালীঘাট তৃণমূলের 'সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘরবন্দি। স্বাভাবিকভাবেই নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাচারিত কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করল কালীঘাট তৃণমূল, নাম 'এক ডাকে অভিষেক' (Ek Dake Abhishek)। চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।
পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের নেতারা দাবি করেছেন তাঁদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতারা সাফ জানিয়েছেন, এর সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। বিজেপি কর্মীদের যোগ প্রমাণিত হলে পুলিশকে কড়া শাস্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদদের মুখেও শোনা গিয়েছে সেই 'অত্যাচারে'র তত্ত্ব। তাঁদের যুক্তি, অত্যাচারিত কর্মীদের পাশে থাকতেই 'দুর্নীতিগ্রস্ত' কালীঘাট তৃণমূলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। তা সত্য নাকি মিথ্যে, তা আলোচনার বিষয়। তবে এটা ঠিক, দুর্দিনে মাঠে-ময়দানে লড়াই করা কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি মমতা-অভিষেক। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া প্রকাশ্যেই আসছেন না তাঁরা। এটা যে কর্মীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাংসদ-বিধায়কদের পাশাপাশি জেলায় জেলায় কর্মীরাও তৃণমূলের থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন।
তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে নিচুতলার কর্মীদের কথা মনে পড়েছে কালীঘাট তৃণমূলের। এবার ঘরছাড়া, অত্যাচারিতদের আইনি সহায়তা দিতে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হল। যার নাম 'এক ডাকে অভিষেক'। ফেসবুকে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন অভিষেক। পোস্টারে লেখা হয়েছে, 'নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্যাচারে ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলায় জড়িত কর্মীদের সুবিধার্থে...যে কোনও আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।' হেল্পলাইন নম্বরটি হল- ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭। যদিও এতে হারানো কর্মীরা ফিরবেন কি? তা সময় বলবে।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যের বাড়ির পর এবার অভিষেকের বাড়িতেও বসানো হচ্ছে ভিউ কাটার। মঙ্গলবার দুপুরে অভিষেকের বাড়ির গেট ঢেকে দিতে দেখা যায়। ফলে আর বাইরে থেকে দেখা যাবে না ভিতরে কী চলছে।
