একুশের জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই দড়ি টানাটানি চলছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরে। বিস্তর জটিলতার মাঝেই এবার 'কালীঘাট তৃণমূলের' নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হল হেয়ার স্ট্রিট থানায়। রবিবার দুপুরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যেখানে ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান হয়, সেখানে মঞ্চ বাঁধার জন্য মাপজোক করেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। ব্যস্ততম সময়ে রাস্তায় জমায়েতের কারনে যান চলাচলে ব্যাঘাত ও নিত্য যাত্রীদের অসুবিধা হয়েছে। এই মর্মে তিন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ তারিখ দুপুর ২ টো ৫০ থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই রাস্তা আটক রেখেছিলেন কুলাণ, দোলা, বৈশ্বানররা। জবাবদিহি করতে তিন জনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে হেয়ার স্ট্রিট থানা।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিধানসভায় তৃণমূলের একুশের জুলাইয়ের মঞ্চ বাঁধার ঘটনাকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রানী রাসমণি রোডে তৃণমূলের কর্মসূচির অনুমতি চাওয়ার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, "রাণী রাসমণি রোডে মিছিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম প্রচুর ভিড় হবে। তাই রাস্তায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশে মিটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। এবার আরেকটা অনুষ্ঠান করবেন বলে অনুমতি চেয়েছে পুলিশের কাছে। তৃণমূলের একদল বলছে আমরাই আসল, অন্য দল বলছে আমরা ল্যাম্পপোস্ট।" কার্যত কটাক্ষের সুরে শুভেন্দুর বার্তা, "ইচ্ছে থাকলে ব্রিগেডে যান না। রাস্তা আটকে কেন মাপজোক করছেন?"
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়ার আবেদনের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই আসরে নামে ‘আসল’ তৃণমূল। শনিবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলও শহিদ দিবস পালন করতে চেয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, ৩৩বছর আগে যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর তৎকালীন বাম সরকারের নির্বিচার গুলিবর্ষণকে নিজেদের আন্দোলন করে দাবি করে এবার প্রদেশ কংগ্রেসও শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালন করতে উদ্যোগী।
দিনকয়েক আগে উত্তর কলকাতায় কর্মিসভা করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ৫ জনকে নিয়ে হলেও ধর্মতলার বুকে ২১ জুলাই পালন করবেন। তবে তাঁরা আদৌ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি পাবেন কি না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা আছেই। এর মাঝেই নতুন করে 'কালীঘাটে তৃণমূলের' ৩ নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হল থানায়। অন্যদিকে, রাস্তা বন্ধ করে বছরের পর বছর ধরে শহিদ দিবস পালন নিয়ে আপত্তি তুলেছে কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলাও চলছে। ফলে সবদিক থেকে বিচার করলে কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে মমতা শিবির। এবার কি তবে আইনি গেরোর ফাঁক গলে ২১ জুলাই উদযাপনের অনুমতি পাবে ঋতব্রতপন্থীরা নাকি সকলের মাঝে কংগ্রেসের শহিদ দিবসই এবার খবরের শিরোনামে উঠে আসবে, সেটাই দেখার।
